চিকিৎসক-কর্মকর্তা সংকটে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের বিশেষায়িত ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মিলছে না উপযুক্ত সেবা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, মেডিকেল কর্মকর্তা না থাকায় এখানে সেবা বন্ধের আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে এই ওয়ার্ডে নতুন কোনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। পুরনো রোগীদেরও অন্য ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
২৪ নম্বর ওয়ার্ডটি খুমেক হাসপাতালের বিশেষায়িত সেবায় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই ওয়ার্ডে হেপাটোলজি, এন্ডোক্রিনলজি, থাইরয়েড ও ডায়াবেটিক, রেসপিরেটোরি মেডিসিন এবং নিউরো মেডিসিন বিভাগের সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা।
সরেজমিনে জানা যায়, এই ওয়ার্ডে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও পদায়ন করা হয়নি। নেই রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও মেডিকেল অফিসার। এতদিন থাকা একমাত্র চিকিৎসককে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে। এখন নার্স ও ওয়ার্ড বয় ছাড়া সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না থাকায় অন্য ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। কলেজের অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসকরা অধ্যাপনার পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিদিন কিছু সময় ঘুরে যান। এর বেশি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন না তারা।
সম্প্রতি এ ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন নগরীর নিরালা এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক না থাকায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, প্রতিদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজারো মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই বিভাগগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বেসরকারিভাবে অধিক ব্যয় করে তারা চিকিৎসা নিতে পারবে না। তাই দ্রুত এখানে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে।
খুমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. কুতুব উদ্দিন মল্লিক বলেন, ‘সার্বক্ষণিক রোগীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ওয়ার্ডটি চালু করেছিলাম। নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসাও দিয়ে এসেছি। এখন চিকিৎসক ছাড়া তো ওয়ার্ড চলবে না। আমাদের অফিস সময় শেষ হলে বাকি সময় কে রোগীদের দেখবে, দায় কে নেবে?’
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মোর্শেদ বলেন, আগের জনবল কাঠামোতে এ রকম ওয়ার্ড ছিল না। রোগীদের কথা চিন্তা করে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ওয়ার্ডটি চালু করা হয়েছে। নতুন জনবল পদায়ন হলে সমস্যা নিরাসন হবে।
