টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বাজে খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওদের মধ্যে টিম স্পিরিট দেখিনি। যত ম্যাচ পর্যন্ত সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে ছিল তত ম্যাচ পর্যন্ত জয়ের কোনো স্পৃহাই ছিল না তাদের। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ডটবল খেলা দল ওরা। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে প্রতি ম্যাচে এতটা ধীরগতির ছিল যে, ওদের মধ্যে রান করার ইচ্ছাও দেখিনি। স্বাভাবিকভাবেই বড় রান করার ইচ্ছা নেই মানে জয়ের চেষ্টাও নেই। এদের দলের মধ্যে হয়তো কিছু সমস্যা ছিল যা বাইরের কারও জানার কথা নয়। হয়তো সে কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্যা চরমে ছিল। মূল কথা টিম স্পিরিট না থাকাতেই টুর্নামেন্টটা খুব বাজে কেটেছে ওদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলটির জয়ের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ৮০ ভাগ। ওদের ওপেনাররা দারুণ খেলছে। প্রতি ম্যাচেই শুরুতে বড় স্কোর করার পথ তৈরি করে দিচ্ছে ডেভিড ওয়ার্নার বা অ্যারন ফিঞ্চের যেকোনো একজন। ওপেনাররা ভালো করাতেই প্রায় প্রতি ম্যাচে তিনশো করতে পারছে অস্ট্রেলিয়া। দলটির সমস্যা নিচের দিকে এবং স্মিথ। স্মিথ কয়েক ম্যাচ ধরে রান পাচ্ছে না। ওকে রানে ফিরতে হবে। সামনে সেমিফাইনাল। সেদিকটি মাথায় রেখে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের রান করা উচিত। এছাড়া উসমান খাজা এখন ভালো করছে। গত কয়েক ম্যাচে সে রান করেছে। নিচের দিকে ওদের উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি ভালো করছে। অবশ্য বাকিরা ওকে সঙ্গ দিতে পারছে না। সেমিফাইনালের আগে এই ম্যাচ দিয়ে বিষয়গুলো ঠিকঠাক করে নিতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। সব মিলিয়ে ৩০০ রান পার করলেই দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে যাবে। কারণ ওদের মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স দারুণ বোলার। দুজনই সময়মতো স্ট্রাইক করে। ওদের মধ্যে স্টার্ক আলাদা। সে দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটাচ্ছে। আজও তাকে স্ট্রাইক করতে হবে। এমনিতেও স্টার্ক দলের প্রয়োজনের সময় উইকেট এনে দিচ্ছে। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া গ্লেন ম্যাকগ্রার (২৬ উইকেট) খুব কাছে স্টার্ক। এই ম্যাচে না পারলেও পরের ম্যাচে সে অবশ্যই রেকর্ডটি ভাঙবে।
ভারতের সামনে শ্রীলঙ্কার সম্ভাবনা খুব কম। ভারত হেসেখেলেই ম্যাচটি জিতবে। এর মূল কারণ ভারতের বোলিং। ওদের বোলিং বিভাগটা এত শক্তিশালী যে ভারত এমনিতেই বাকি দলগুলোর চেয়ে আলাদা। শ্রীলঙ্কা যদি ম্যাচটি জিততে চায় তবে অনেক ভালো ব্যাটিং করতে হবে। ২৭০ বা ৩০০ করতে চাইলেও শ্রীলঙ্কাকে বিশেষ ব্যাটিং করতে হবে। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে উঠে আসা ব্যাটসম্যান আভিস্কা ফার্নান্দো শ্রীলঙ্কার হয়ে দারুণ খেলছে। কিন্তু ওর একার পক্ষে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের সামনে লড়াই করা কঠিন। লঙ্কানদের বোলিং বিভাগ পুরোপুরি মালিঙ্গানির্ভর। সে ভালো করলে ওদের বোলিংটা ভালো হয়। এ বিভাগেও মালিঙ্গার একার পক্ষে লড়াই করে ম্যাচ জেতানো অসম্ভব। তবে কিছু কিছু দিকে ভারতের দুর্বলতা আছে। প্রথম রোহিত শর্মাকে জীবন দেওয়া যাবে না। ও সেঞ্চুরিগুলো প্রায় প্রতিটি ‘লাইফ’ পেয়েই করেছে এবং ওর সেঞ্চুরিতে ভারত প্রতি ম্যাচে বড় স্কোর পেয়ে যাচ্ছে। তাই রোহিতকে দ্রুত ফেরাতে হবে। এছাড়া কোহলি সেঞ্চুরি পাচ্ছে না। এতে করে ভারতের দলীয় সংগ্রহে খুব প্রভাব পড়ছে, নয়তো প্রতি ম্যাচেই ওরা ৩৫০ করত। আর নিচের দিকে হার্দিক পান্ডিয়া ছাড়া ওদের কেউ রান পাচ্ছে না। ধোনি ধীরে খেলছে। ওপরে লোকেশ রাহুল রান পাচ্ছে না। ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের চার-পাঁচ নম্বরও ভালো করছে না। সেমিফাইনালের আগে এই ম্যাচে এসব ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চাইবে ভারত।
