শহীদ কাপুর ও কিয়ারা অভিনীত বিতর্কিত ছবি ‘কবীর সিং’। ছবিটি দুই সপ্তাহের মাথায় ২০০ কোটি উপর ব্যবসা করে ফেলেছে।
তবে যে পদ্ধতিতে গল্পের নায়ক কবীর একটি মেয়েকে পেতে চায় বা ডাক্তার হিসেবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যা যা করে—এসব কিছু নিয়ে মুক্তির দিন থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল ছবিটি। ভালোবাসা কি জোর করে হয়? ভালোবেসে কাউকে না পেলে নির্দ্বিধায় চড় মারা যায় তাকে? এ সব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল নেটিজেনদের মনে।
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আবারও ছবিটির পরিচালক বিতর্কের শিরোনামে উঠে এসেছেন।
সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে ছবিটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নানান বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে বেকায়দা মন্তব্য করে বসলেন পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা।
ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আপনি যদি আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে অন্তর থেকে ভালোবাসেন, সে ক্ষেত্রে আপনার ও আপনার পার্টনারের একে অপরকে চড় মারার অধিকার রয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই। আপনি পুরুষ হলেও আপনার সেই অধিকার রয়েছে।”
ছবিটির একটি দৃশ্য উল্লেখ করে তার বক্তব্য, “প্রীতি কবীরকে চড় মারতে পারলে কবীর-এর ও অধিকার রয়েছে তাকে চড় মারার। যে সম্পর্কে প্রেমিকাকে চড় মারারও অধিকার নেই, চুমু খাওয়ার অধিকার নেই, ছোঁয়ার অধিকার নেই আমি মনে করি সে সম্পর্ক আবেগহীন, নিষ্প্রাণ।”
অনেকের ধারণা, ছবিটি নিয়ে লোকের মনে কৌতূহল জাগার কারণেই বক্স অফিস উপচে পড়েছে ‘কবীর সিং’-এর সাফল্যে।
তবে এ রকম একটি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য শহীদ কাপুরও সমালোচিত হয়েছেন্।
ছবিটিকে 'মিসোজিনিস্ট' ( নারীবিদ্বেষী) আখ্যা দিয়ে এক অভিনেত্রী বলেন, “অভিনেতা হিসেবে শহীদের কি কোনো সামাজিক দায়িত্ব নেই? গ্লাস ভাঙার জন্য পরিচারিকার দিকে তেড়ে যাওয়া, ছুরি দেখিয়ে পোশাক খোলানোর চেষ্টা, যখন ইচ্ছে যৌন-তাড়নায় ‘ঝাঁপিয়ে পড়া’ ! দরকার ছিল এসবের!
ছবিটিতে যেহেতু এক ডাক্তারের জীবনযাপন দেখানো হয়েছে, তাই সেই মহল থেকেও আপত্তি উঠেছে। ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও মদ, সিগারেটকে যেভাবে ব্যর্থ প্রেমিকের হাতিয়ার হিসেবে দেখানো হয়েছে, তা বিস্মিত করেছে অনেককে।
সম্প্রতি শহীদ একটি পোস্ট করেছেন সোশাল মিডিয়ায়। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সকলেই ভুল করি। তার থেকে শিক্ষাও নিই। তাই কবীরকে বিচার না করে তাকে বোঝার চেষ্টা করা উচিত।’’
