নুসরাত হত্যা: কেরোসিন ও বোরকা বিক্রেতার সাক্ষ্য ও জেরা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ১১:০৭ পিএম

সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় রবিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন কোরাসিন তেল বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও কর্মচারী হেলাল উদ্দিন।

সাক্ষ্য প্রদানের পর তাদের আসামীপক্ষের আইনজীবিরা দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করেন। এ নিয়ে রবিবার সপ্তম কার্য দিবসে আলোচিত মামলাটিতে আট জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান ও জেরা সমাপ্ত হয়েছে।

সোমবার সাক্ষী  নুসরাতের ছোট ভাই রাসেদুল হাসান রায়হান ও মাদ্রাসা ছাত্র জহির উদ্দিনের সাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।

মামলায় হাজিরার জন্য সকাল ১১টার দিকে ১৬ আসামিকে ফেনী কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। চাঞ্চল্যকর এ মামলার শুনানি উপলক্ষে আদালত ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। আদালত ভবন এবং বিচার কক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

সোনাগাজীর চরছান্দিয়া ইউপির ভুঞাবাজারে লোকমান হোসেন লিটনের ‘লিটন স্টোর’ নামে একটি মুদি দোকান রয়েছে। আসামী শামিমের একটি মোবাইল ফ্লেক্সিলোডের দোকান রয়েছে।  নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ২/১ দিন আগে শামিম ৭০ টাকা দাম পরিশোধ করে ১ লিটার কেরোসিন তেল ক্রয় করেন।

লোকমান হোসেন লিটন আদালতে জানান, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে পিবিআই আসামী শামিমকে নিয়ে দোকানে আসলে সে স্বীকার করে আমার দোকান থেকে ১লিটার কেরোসিন তেল ক্রয় করেছে, আমি তাকে শনাক্ত করি। পিবিআই যে জব্দ তালিকা করে সেখানে আমি স্বাক্ষর করি।

বোরকা দোকানের মালিক জসিম উদ্দিন ও কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ আদালতকে বলেন, সোনাগাজী পৌরসভার জিরো পয়েন্টের মানিক প্লাজায় ‘ওয়াল্ড ফেমাস বোরকা বাজার’ নামে একটি দোকান রয়েছে। দোকানে বোরকা সেলাই করে বিক্রি করি এবং ওড়না হিজাব বিক্রি করি। আসামী কামরুন নাহার মনি মাঝে মাঝে আমার দোকান থেকে বোরকা ক্রয় করতেন। গত ৪ মার্চ কামরুন নাহার মনি তার কয়েকজন বান্ধবি সহ আমার দোকানে আসে এবং ৫টি বোরকার অর্ডার করেন। তারা ১৪ মার্চের আগে বিভিন্ন তারিকে বোরকাগুলো ডেলিভারী নেয়। নুসরাতকে আগুন লাগানোর ২/৩ দিন আগে কামরুন নাহার মনি ১৯৮০ টাকা দামে ২টি কালো রংয়ের বোরকা ক্রয় করেন।

গত ১৯ এপ্রিল তারিকে বেলা ১১টার দিকে পিবিআই মনিকে নিয়ে আমার দোকানে আসে। মনি তখন  স্বীকার করেন, সে আমার দোকান থেকে ২টি কালো রংয়ের বোরকা ক্রয় করেছে। ৩০ এপ্রিল  ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আমি এই জবানবন্দি প্রদান করি।  

পর্যায়ক্রমে আদালতের নির্দেশে তিন সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, ফরিদ উদ্দিন নয়ন, মাহফুজুল হক, আবুল বশর, নুর ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম মিন্টু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত