রাজধানীর ভাসমান ও বস্তিতে বসবাস করা দম্পতিরা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে এখনো সচেতন না। এদের মধ্যে অনেকেই এ পদ্ধতি গ্রহণ করলেও তবে তা অনেক সন্তান জন্ম দেওয়ার পর করছেন। এজন্য রাজধানীতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমে সফলতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব দম্পতিরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করায় নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও এদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে না। এজন্য সিটি করপোরেশনের ভূমিকা জোরদার করার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা। সম্প্রতি রাজধানীর রমনা পার্কে ফুটওভারের সিঁড়িতে কথা হয় চার সন্তানের জননী তাসলিমা বেগমের সঙ্গে। তার স্বামী হাসিবুর রহমান তখন কাজের সন্ধানে অন্য কোথাও ছিলেন। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন কি না জানতে চাইলে তাসলিমা বলেন, ‘পেট ভরে ভাত খাওয়াই কঠিন। ওসব কিনব কখন।’
শুধু তাসলিমা নন, ভাসমান ও বস্তির অধিকাংশই নারীই এ বিষয়ে সচেতন নন। তেজগাঁও, তিব্বত, মালিবাগ, কড়াইল এলাকার ফুটপাতে থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নুরুন নাহার বেগম রোজী বলেন, ‘জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় পাড়ি জমাচ্ছে। তাদের অনেকেই ভাসমান জনসংখ্যার অংশ হয়ে উঠেছে, যাদের চিহ্নিত করা খুবই কঠিন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নুরুন্নবী বলেন, দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গর্ভনিরোধক গ্রহণের হার সন্তোষজনক। তবে ভাসমান ও বস্তির দম্পতিদের কাছে এসব সামগ্রী পৌঁছানোতে সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটি করপোরেশনের মুখ্য ভূমিকা রাখা উচিত।’
