ফরিদপুর শহরে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঝিলটুলীর ঝিলের শেষ অংশও। সম্প্রতি ওই ঝিলের অনাথের আচারের মোড় এলাকায় মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি ট্রাক থেকে মাটি এনে ওই ঝিলে ফেলা হচ্ছে।
আনুমানিক এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঝিলটি ফরিদপুর খালের বাদামতলি সেতুর পাশ থেকে শুরু হয়ে টাউন থিয়েটারের পূর্বপাশ দিয়ে অম্বিকা হলের পাশ দিয়ে অনাথের আচারের মোড় হয়ে দক্ষিণে ঢোল সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে।
ওই ঝিলের উত্তর দিকে টাউন থিয়েটার থেকে অম্বিকা হল পর্যন্ত অংশটি পাকাপোক্তভাবে ভরাট করে ১৯৭৯ সালে ফরিদপুর পৌরসভা নির্মাণ করে দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট ‘সুপার মার্কেট’।
সম্প্রতি দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট সুপার মার্কেটটি ভেঙে ১০ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়া ওই ঝিলের জায়গা ভরাট করে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, বি এম এ ভবন, ডিপ্লোমা প্রকৌশল সমিতি, চৌরঙ্গী হোটেল, সুফিক্লাব পাঠাগারসহ বিভিন্ন নামে স্থাপনা নির্মিত হয়েছে।
ওই ঝিলেরই দক্ষিণের অংশে ফরিদপুর মডেল প্রাইমারি স্কুল থেকে অনাথের আচারের দোকানের মোড় পর্যন্ত অন্তত ৫০০ মিটার অংশটি এতদিন ঝিল হিসেবেই ছিল।
গত ১ জুন থেকে ঝিলের অনাথের আচারের মোড় এলাকার অংশ ভরাট করার কাজ শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্যোগে ঝিলের এ অংশটুকু ভরাট করা হচ্ছে।
এ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের প্রতিনিধি বিএনপি নেতা গোলাম মনসুর ওরফে নান্নু জানান, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষ এটি ভরাট করছে। তিনি বলেন, এ ভরাট কাজে প্রতিদিন পাঁচ ট্রাক মাটি আনার কাজ চলছে।
ঝিলের ওই অংশ ভরাট করার কথা স্বীকার করে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশার্রফ আলী বলেন, ঝিলটির ‘একটি অংশের মালিক রাজেন্দ্র কলেজ। ১৯৫৫-৫৬ সালে নিলামের মাধ্যমে ওই জায়গার মালিক হয় কলেজ।
তিনি বলেন, ঝিলের পাড়ে নতুন একটি ছাত্রীনিবাস করা হয়েছে। ওই ছাত্রীনিবাসের সীমানা প্রাচীর দেওয়ার জন্য ঝিলের ওই অংশটি ভরাট করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহাতাব আলী বলেন, ওই ঝিলটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে আমাদের জানা ছিল। এখন শুনছি ওটির মালিকানা রাজেন্দ্র কলেজসহ বিভিন্ন ব্যক্তি।
শেখ মাহাতাব আলী বলেন, ফরিদপুরে পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ওই ঝিলটিতে পানি প্রবাহের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাজেন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নতুন করে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষকে।
মেয়র বলেন, ফরিদপুর শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বৃষ্টির পানি ওই ঝিল দিয়ে অপসারিত হয়। ঝিলটি ভরাট করে ফেলা হলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। যা প্রকারান্তরে সর্বস্তরের পৌরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
