গত শনিবার থেকে টানা বৃষ্টির প্রভাবে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের বাজালিয়ায় সড়ক ডুবে দ্বিতীয় দিনের মতো সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বান্দরবান।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা নামক জায়গাটিতে প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে। যার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী কোনো দূরপাল্লার বাস বান্দরবান শহর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না।
যাত্রীরা হেঁটে, নৌকায় এবং ভ্যান গাড়িতে চড়ে ডুবে থাকা অংশটুকু পার হয়ে বিকল্প উপায়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাবার চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিক সমিতি।
বান্দরবান জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ ঝন্টু জানান, ‘ডুবে থাকা অংশটি পার হতে গেলে গাড়িতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই আমরা বান্দরবান থেকে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।’
ভারী বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী জনবসতি এবং সদর, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম উপজেলার অনেকগুলো নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। তবে মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন আর কোনো অঞ্চল প্লাবিত হয়নি।
বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, ‘জেলা সদরের ৪টি আশ্রয়ণকেন্দ্রে শ খানেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে আশ্রয় নিয়েছে। বাকিরা সবাই নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ।’
বুধবার বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পক্ষ থেকে এসব মানুষকে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল ইমরান। এ সময় তার সাথে পৌরসভার মেয়র মো. ইসলাম বেবীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম জানান, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে আসতে সারাদিন মাইকিং করা হচ্ছে।’
