নীলফামারীতে ১৫টি চরগ্রামের ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ০৩:২৪ পিএম

উজানের অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর র্তীরবর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চরগ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রর হাইডোলজি বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী এ.এস.এম আমিনুর রশীদ জানান, উজানে অব্যাহত বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজারে ডালিয়া পয়েন্টে  বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

সকাল ৯টায় দুই সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমা বরাবরে প্রবাহিত হলেও বেলা ১২টা থেকে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ 

তিনি আরও জানান, গত সোমবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টেমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেলা ১২টার পর থেকে কমতে শুরু করে। বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নদীর বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।’

তিস্তার পানি বৃদ্ধি হয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার হাঁটু সমান পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন মুঠোফোনে বলেন, ‘বুধবার দিবাগত রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। যা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরস্বর ও পূর্ব ছাতনাই মৌজার প্রায় নয় শত পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে থাকে। দুপুরের দিকে এসব পরিবারগুলোর বাড়ি ঘরে হাঁটু সমান পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পনিবন্দি মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে বলা হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপনী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, “ইউনিয়নের ছোটখাতা ও বাইশপুকুর গ্রামের প্রায় সাড়ে চার শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ব্যারাজের ভাটিতে খালিশাচাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক বিপুল চন্দ্র সেন বলেন, ‘নদীর পানি বাড়ার গতিতে গ্রামের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।’

জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেইন বলেন, “বৃহস্পতিবার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের হলদিবাড়ি ও ভবনচুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুপুর একটা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল বলে জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বেলা ১২টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালীকরণে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত