বন বাঁচায়, বন গড়ে বিএফআরআই

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০১:৩০ এএম

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বি এফআরআই) বাংলাদেশের বনের গাছ-গাছালি, উদ্ভিদ, মাটি, পানি নিয়ে গবেষণা করে। কাঠের বিকল্প বাঁশের আসবাব তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন তাদের পরিচালক ড. খুরশীদ আকতার। এবারের পরিবেশ পদক জয়ী এ প্রতিষ্ঠানটির কাজ ও সেবা নিয়ে লিখেছেন নয়ন চক্রবর্ত্তী। ছবি তুলেছেন হাবিবুর রব

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আছে চট্টগ্রামে। ষোলশহরে পাহাড়ের মধ্যে বিরাট ভবনটি। জন্ম ১৯৫৫ সালে, নাম ছিল ‘ফরেস্ট প্রডাক্ট ল্যাবরেটরি’। উদ্দেশ্যÑ বন থেকে নানা পণ্যদ্রব্য তৈরির গবেষণা। সেই থেকে এটি বাংলাদেশের বনজ সম্পদ বাড়ানো ও সেগুলোর নানা রকমের ব্যবহারের গবেষণা করে। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পর, ১৯৭৩ সালে একে গবেষণাগার হিসেবে সীমিত করে রাখা হলো না, পূর্ণ জাতীয় গবেষণাগার করে গড়ে তোলা হলো। ৩০ বছর পর, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) নাম দিয়ে পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করে সারা দেশের বনজ সম্পদ নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য নিয়ে আসা হলো পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ২৮ হেক্টরের বিরাট গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অনেক কিছু আছে। নিজেদের ও অন্যদের অনুমতি নিয়ে ব্যবহারের জন্য তারা গড়ে তুলেছেন খুব ভালো বন লাইব্রেরি। ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্তই নানা ধরনের ১১শ ৬৮টি প্রকাশনা তৈরি করে ছাপিয়েছেন। তাদের এ দেশের বনগুলোর নানা জাতের উদ্ভিদের ভালো নমুনা সংগ্রহশালা আছে। তাতে ২১ হাজার উদ্ভিদের নমুনা আছে! বাংলাদেশের একমাত্র ‘বিএফআরআই জাইলোরিয়াম’ নামের কাঠের সংগ্রহশালা এখানেই। তাতে মোট ৬শ দেশি এবং ১৯শ বিদেশি জাতের কাঠের নমুনা আছে। আরও আছে আরবোরেটাম (কুঞ্জবন), বন্যপ্রাণীর নমুনার সংগ্রহশালা।

প্রতিষ্ঠানের আশপাশের পরিবেশ অন্যরকমের। নানা ধরণের বন্যপ্রাণীর বাস অবাধ। সেগুলোর মধ্যে সজারু, বন বিড়াল, শেয়াল, ছয় ধরনের সাপ, নানা জাতের পাখিসহ শখানেক জাতের বন্য প্রাণী আছে ইনস্টিটিউটের চৌহদ্দিতে। তাদের সঙ্গ পেয়ে গাছগাছালিতে ঘেরা প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অনেকেই কৃতি। এখন পরিচালক ড. খুরশীদ আকতার, নামকরা বিজ্ঞানী। গবেষণা করে বাঁশের মাধ্যমে নানা ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করেছেন। তার কাজের শুরু ১৪ বছর আগেÑ ২০০৫ সালে। তখন ড. খুরশীদ ছিলেন বিআরআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী। তাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানেই বাঁশের আলাদা উদ্যান আছে। সেটিকে ‘ব্যাম্বোসেটাম’ বলেন। ৪৬ বছর আগে তারা এটি তৈরি করেছিলেন গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য বন সংরক্ষণবিদ্যা বা সিলভি কালচার বিভাগের অধীনে। তাতে দেশের প্রায় সব ধরনের মোট ২৮ জাতের বাঁশ আছে। মুলি নামের খুব পরিচিত বাঁশ তো আছেই, আছে বরাক, ভুদুম, বাইজ্জা, বেথুয়া, ফারুয়া, ওরা, লতা মিরতিঙ্গা নামের গ্রাম-গঞ্জের বাঁশ। বিদেশ থেকে এনে থাই, চাইনিজ, হোজ নামের আরও ১০ জাতের বাঁশও তারা রেখেছেন। সেগুলোকে সংকরায়ন করেন, আমাদের দেশের প্রজাতির ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়ান। নানাভাবে চিন্তার পর ড. খুরশীদের মনে হলোÑ বাঁশ দিয়ে একেবারে কাঠের মতো আসবাবপত্র তৈরি করা যেতে পারে। সে নিয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণাও শুরু করলেন। চেয়েছিলেন, কাঠের মতোই দেখতে, কিন্তু বাঁশের তৈরি কম দামের পরিবেশের বন্ধু আসবাবপত্র তৈরি করবেন। তার সঙ্গে ছিলেন মাহবুবুর রহমান ও ওয়ালিউর শেখ নামের আরও দুই সহ-গবেষক। তারা বিএফআরআইয়ের গবেষণাগারে চীনের তৈরি গবেষণা উপকরণ দিয়ে কাজ শুরু করলেন। চার বছর টানা গবেষণা ও হাতে-কলমে পরীক্ষা করে বাঁশের তৈরি পরিবেশের বন্ধু কম খরচের আসবাবপত্র তৈরি করলেন। সেটি কাঠের বিকল্প হবে, বন উজাড় ঠেকাবে। নাম দিলেন ‘বাঁশের বিভিন্ন অংশ দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র’। কেন এই আসবাব? প্রশ্নের জবাবে বিএফআরআইয়ের পরিচালক উদাহরণ দিলেন, ‘এই দেশে সেগুন কাঠের আসবাবের খুব চাহিদা। সেগুলো বেশিদিন টেকে, ঘুণে ধরে না, দামও অনেক; কিন্তু আমাদের কি জানা একটি সেগুন গাছ কাটার উপযোগী করতে ৪০ বছর লাগে। অথচ সেই কাঠের বিকল্প বাঁশ গাছের ঝাড়ের তেমন হতে মাত্র তিন থেকে চার বছর লাগে। উপযুক্ত বাঁশঝাড় থেকে পরপর চার বছর গাছ কাটা যায়। একটি বাঁশের ঝাড় ৩০ থেকে শখানেক বছর বাঁচে। আমাদের মাটি এতটাই বাঁশের উপযোগী। আবাদও খুব সোজা। বন ধ্বংস ঠেকাতেই আমাদের এই মূল্যবান আবিষ্কার। কারণ দেশে নানাভাবে বন ধ্বংসের হার অনেক। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা আমাদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসায় ধনী হতে পারেন।’ সে জন্য তারা উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিকল্প এই আসবাব নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের প্রশিক্ষণ দিতে চাচ্ছেন। জানাচ্ছেনÑ তাইওয়ান, জাপান, চীনের মতো এশিয়ার উন্নত দেশগুলোতে বাঁশের আসবাবের খুব ব্যবহার। বিদেশেও এমন আসবাব রপ্তানি করা সম্ভব। তাদের তৈরি এই আসবাবের ব্যবহার করছেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত শিল্প-উদ্যোক্তা ‘এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানি’। তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘এ কে খান প্লাইউড ফ্যাক্টরি’ ২০১৪ সাল থেকে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রযুক্তিতে বাঁশের আসবাব, বাঁশের টাইলস বানাচ্ছেন। বিদেশেও রপ্তানি করছেন। চাইলে যেকোনো উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান সরকারি এই প্রযুক্তি ব্যবহার শিখে কাজে লাগাতে পারেন বলে জানালেন আবিষ্কারক ও পরিচালক। বললেন, ‘এখন তারা কেওড়া কাঠ দিয়ে হার্ডবোর্ড বানানো যাবে কি না ও কীভাবে সম্ভবÑ গবেষণা করছেন।’ বিএফআরআই আরও অনেক আবিষ্কার করেছেÑ গাছ কতটুকু চওড়া ও উঁচু জানার জন্য গাণিতিক মডেল, রাসায়নিক দ্রব্যের মাধ্যমে বাসাবাড়ি তৈরি। তাদের আবিষ্কার করা জনপ্রিয় গাছ রোপণ ও পরিচর্যা কৌশলÑ কঞ্চি ও কলমে বাঁশের চাষ, পলিব্যাগ বা বিচ্ছিন্ন অঙ্কুর নলে তালের চারা মাটি থেকে তোলা, রোপণ ইত্যাদি। তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যÑ সিমেন্ট সইতে পারে এমন পার্টিকেল বোর্ড তৈরি। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য এখন সেটির পাইলট প্রকল্প চলছে। এখানে বন ব্যবস্থাপনা নামে আলাদা উইং আছে। সেটি অনেকগুলো প্রযুক্তি ও কৌশল আবিষ্কার করেছেÑ গাছ রোপণের জন্য মাটি কেমন উপযোগী নির্ণয়, মা গাছ নির্বাচন করে উন্নতমানের বীজ ও চারা উৎপাদন, ম্যানগ্রোভ জাতের গুরুত্বপূর্ণ গাছগুলোর চারা উত্তোলন করে গাছ জন্মিয়ে নার্সারির মাধ্যমে ছড়ানো, সুন্দরবনের গোল পাতার বাগান সৃষ্টি, বেত ও পাটি পাতার বাগান সৃষ্টি, বাঁশের ব্যাপক চারা তৈরি ও চাষাবাদ ছড়ানো, একাশিয়া গাছের বংশবিস্তার, নার্সারি সৃষ্টি ও পরিচর্যা পদ্ধতি, অল্প জায়গায় অঙ্কুরোদগমের ক্ষমতা আছে এমন চারা দিয়ে দেশি গাছের বন সৃষ্টি, ভেষজ উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি, কেওড়া বাগানে ম্যানগ্রোভ জাতের গাছ রোপণ, চরে কেওড়া ও বাইন জাতের বাগান তৈরি, সুন্দরবন ও উপকূলের জোয়ারভাটাময় এলাকায় বৃক্ষ প্রজাতির বাগান সৃষ্টি, দেশের বাঁশঝাড়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাছ ও আয় সৃষ্টি, বাঁশের মড়ক ঠেকানোর উপায়, পাহাড়ের মাটিতে ভালোভাবে চাষাবাদ, জ¦ালানি কাঠের উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল, বনের ক্ষতিকর পোকামাকড় ও গাছের রোগবালাই দূরের উপায়, গাছ থেকে ভালো কাঠ খুঁজে বের করার উপায়, প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বাঁশ, বেত ও গাছ কীভাবে চেনা যায়, রাবার গাছের ভেতর থেকে বেরুনো গুরুত্বপূর্ণ দুধের মতো ঘন সাদা তরলের নিঃসরণের (একে লেটেক্স বলে) উৎপাদন বাড়ানো ইত্যাদি। উদ্ভাবনগুলোও যেকোনো মানুষ শিখে বনের, গাছের ও জীবিকার কাজে লাগাতে পারেন। এই শাখা বনের বেঁচে থাকা ও বন বাড়ানোর জন্য নানা আবিষ্কার করেছে। সেগুলো সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, নিজেরাও প্রয়োগ করে বাংলাদেশের বনকে বাঁচিয়ে ও বাড়িয়ে তুলছেন। তাদের এই আবিষ্কারগুলো যে কাউকেই চমকে দেবে, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক করে তুলবেÑ পুরো সুন্দরবন অঞ্চলের মাটি ও পানির লবণাক্ততার ধারা নিয়মিত গবেষণা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গ্রহণ, ম্যানগ্রোভ বীজের নিয়মিত উৎপাদন ও নতুন বন সৃষ্টি, ম্যানগ্রোভ মা গাছ বিশেষভাবে গবেষণাগারে সংরক্ষণ ও সেগুলো থেকে নতুন চারার জন্মদান এবং বন সৃষ্টি, উপকূলের মাটির বাঁধগুলোতে ভালো থাকবে, মাটিকে শক্ত রাখবেÑ এমন গাছ নির্বাচন ও সরকারি-বেসরকারিভাবে সেগুলো রোপণে প্রয়োজনীয় সাহায্য, ছয় জাতের পাম গাছের চাষাবাদে উপকূলের গরিব মানুষের আয় বাড়ানো, অংশীদার হিসেবে কাজ করে সেই অঞ্চলের মানুষরা যাতে উঁচু জমিতে গাছ, বন, ফলের গাছ লাগিয়ে আয় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের সাহায্য করা, কোন এলাকায় কোন ধরনের গাছ বেশি বাড়ে সেই গাছগুলো নিয়ে গবেষণা, তাদের জন্মদান, সেগুলো রোপণ এবং পরিচর্যায় সব ধরনের সাহায্য করা, কোন জাতের গাছের জন্য মাটিতে মিশে থাকা পচে যাওয়া কোন ধরনের গাছের পাতা, গোবর ইত্যাদি প্রয়োজন; সেই বৈজ্ঞানিক বায়োমাস টেবিল তৈরি ও সরবরাহ, নতুন বনজ সম্পদের আবিষ্কার, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন, বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলা ও দিনাজপুরের মধ্যপাড়া রেঞ্জে বন বিভাগের তৈরি সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের গাছগুলোর অবস্থা নিয়মিত মূল্যায়ন ও সেগুলোর পরিচর্যা। এই বন ব্যবস্থাপনা উইংয়ের অধীনে আছে ১১টি বিভাগ।

বিএফআরআইয়ের আছে বনজ সম্পদ উইং। সেটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার পদ্ধতি তৈরি করেছে। মানুষের কাজেও লাগেÑ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করে কাঠের আসবাবের আয়ু বাড়ানো, সূর্যের আলোতে কম সময়ে ও ভালোভাবে কাঠ টেকসই উপায়ে কাঠ শুকানো, কাগজ তৈরিতে ব্যবহার করা ম-ের উৎপাদন ও মান বাড়ানো, খারাপ জাতের উৎপাদন করা পাটের আঁশ থেকে উন্নতমানের ম- তৈরি, রেলওয়ের কাঠের সিøপার ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কাঠের খুঁটিগুলো ভালোভাবে, দীর্ঘদিন বাঁচানোর জন্য সাহায্য করা। এটির অধীনে আছে ছয়টি বিভাগ। এই ইনস্টিটিউটে আছে অন্যরকমের সংগ্রহশালা। সেটি বনের কীট, পতঙ্গ ও ছত্রাকের। তারা যেমন এটি গবেষণার কাজে লাগান, তেমনি আগ্রহী গবেষক, দর্শকরা সংগ্রহশালাটি থেকে জ্ঞান ও আনন্দ লাভ করেন। যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে তারা যোগাযোগ এবং সাহায্য করলে সরকারি নিয়মে বনের যেকোনো প্রাণীর তথ্য, সেগুলোকে কৃত্রিমভাবে কীভাবে জন্মাতে হবে জানান। জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর ইউনিটের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান জানালেন, ‘আমরা যেমন বনের সম্পদ নিয়ে গবেষণা করি, সেগুলো বাঁচাতে কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কার করে ছড়িয়ে দিই, তেমনি গাছের উৎপাদন বাড়ানো, বৃক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বনের এবং গাছের সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার কীভাবে করা হয়Ñ সেসব সেবা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সাহায্য দিই। দুুটি সাধারণ সেবা বিভাগ আছে। আমাদের বৈজ্ঞানিকভাবে সহজে নানা জাতের কাঠ চেনা, কোষ ব্যবহার করে বাঁশের গা থেকে চারা জন্মানো; কলম ও কোষের মাধ্যমে ভেষজ উদ্ভিদের জন্মদান পদ্ধতিগুলো খুব জনপ্রিয়। প্রতি বছরই কয়েক হাজার চারা এভাবে তৈরি করে মানুষের আয় তৈরি ও গাছপ্রেমীদের গাছ লাগানোর জন্য ইনস্টিটিউট থেকে খুব কম দামে দেওয়া হচ্ছে। তারা চাইলে সেগুলো শিখে নিতে পারেন। দেশে জন্মে ও জন্মানো সম্ভব এমন প্রায় সব ধরনের গাছের বীজ ও চারা জন্মাই। সব ধরনের মাটির গুণ বাড়াতে গবেষণা করি।’ তাদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলে কৃষিকাজের পাশাপাশি সেই জমিতে বন করার জন্য তারা নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। সুন্দরবনে উপকূলে যে নতুন বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়েছে, সেখানে ঘাস ও গাছের চারা রোপণের জন্য নার্সারি তৈরির কাজ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সেখানে বনায়নের উপায়ও আবিষ্কার করেছেন। ফলে মানুষের আয় হবে। বিচ্ছিন্ন অঙ্কুর নলে তালের চারা উৎপাদন উপকূলে বন বিভাগের সবুজ বেষ্টনী, বনজ সম্পদ আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটে খুব ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কাজের স্বীকতি হিসেবে এবার তারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রযুক্তি ও গবেষণা শাখায় ‘পরিবেশ পদক-২০১৯’ লাভ করেছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত