ছয় বছরের সুখী দাম্পত্য জীবন। ভালোবাসার ঘর আলো করে এসেছে দুটি ফুটফুটে সন্তান। সবকিছুই চলছিল সাধারণ ও স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু হঠাৎ করেই এই দম্পতির জীবনে নেমে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঝড়। একটি সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন বদলে দেয় তাদের জীবনের গল্প। সম্প্রতি মেডিক্যাল পরীক্ষায় ব্রিটিশ এই দম্পতি জানতে পেরেছেন, তারা আসলে পরস্পরের আপন ভাই-বোন।
দ্য মিররের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খুব ছোটবেলায় নিজের জৈবিক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। শহরের অন্য একটি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। নিজের আসল বাবা-মা কারা, তা কখনোই জানতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে বড় হয়ে একই শহরের এক যুবতীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। একপর্যায়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর প্রথম সন্তানের জন্ম হলেও এই সত্য তাদের অজানা ছিল।
জীবনের এই চরম সত্য প্রকাশ্যে আসে তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার পর। সে সময় স্ত্রী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা জানান, তার অবিলম্বে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। পরিবারের নিকটাত্মীয়দের কারও সঙ্গে কিডনির ম্যাচ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এগিয়ে আসেন স্বামী। তিনি নিজের কিডনি প্রদান করতে পারবেন কি না, তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষা করান। তবে পরীক্ষার ফল দেখে খোদ চিকিৎসকরাই বিস্মিত হয়ে যান।
চিকিৎসকরা জানান, স্বামী ও স্ত্রীর শারীরিক ও টিস্যু সংক্রান্ত উপাদানে অস্বাভাবিক মিল রয়েছে। পরবর্তীতে আরও নিখুঁত ফলাফলের জন্য টিস্যু এইচএলএ (হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন) পরীক্ষা করা হয়। সেখানকার ফলাফলেও দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর ডিএনএ ও টিস্যুর সামঞ্জস্য সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের শতভাগ সামঞ্জস্য মূলত আপন ভাই-বোনের মধ্যেই দেখা যায়। এই ফলেই চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে তারা মূলত আপন ভাই-বোন।
হতাশ ও ব্যাকুল হয়ে এই ব্রিটিশ দম্পতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সকলের মতামত চেয়েছেন। ভাগ্যক্রমে তাদের সন্তানদের শরীরে কোনো ধরনের জেনেটিক জটিলতা বা অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি, তারা সম্পূর্ণ সুস্থ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীরা তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে পরামর্শ দিয়েছেন- যেহেতু তারা ইতোমধ্যে বিবাহিত এবং সন্তানরা সুস্থ রয়েছে, তাই অতীতের কথা না ভেবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে তাদের দায়িত্বশীল বাবা-মা হিসেবে একসঙ্গেই থাকা উচিত।
