দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হাইওয়েসহ বিভিন্ন রাস্তায় দিনরাত ব্যাপকহারে চাঁদাবাজিতে মানুষ এখন অতিষ্ঠ। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও চাঁদাবাজি থামেনি। পৌরসভার পক্ষে ‘মাদককে না বলুন’ লেখাসংবলিত টোকেনে প্রায় মার দেওয়ার ভঙ্গিতে আদায় করা হচ্ছে এসব চাঁদা।
দেখা গেছে, পার্বতীপুরের বাস টার্মিনাল, চৌরাস্তার মোড়, সুন্দুরীপাড়া, হলদিবাড়ী রেলগেটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক, ট্রাক্টর, অটোবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
চাঁদাবাজদের হাতে থাকা পৌরসভার হলুদ রঙা টোকেনে লেখা আছে ‘মাদককে না বলুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন।’ ওই সব টোকেন ধরিয়ে দিয়ে তোলা হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পৌর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত টেন্ডারে সর্বোচ্চ দুই দরদাতাকে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় পৌর এলাকার রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন থেকে টোল আদায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌমেন্দ্রনাথ সাহা টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট করেন। পরদিন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ এলাকার সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের পরিবহন থেকে টোল আদায় না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা জারি করে।
ধর্ষণের মামলায় আত্মগোপনে থাকায় পার্বতীপুরের পৌর মেয়র এ জেড এম মিনহাজুল হকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে প্যানেল মেয়র মঞ্জুরুল আজিজ পলাশ বলেছেন, ‘রাস্তায় পরিবহনের টোল আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত কোনো চিঠি আমরা পাইনি।’
