পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনার মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ৯ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন) নথি হাইকোর্টে এসেছে। গত সপ্তাহে পাবনার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত থেকে এ সংক্রান্ত নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায় বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান। ‘এ সংক্রান্ত নথি (ডেথ রেফারেন্স) গত সপ্তাহে আমাদের কাছে আসার পর তা ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নিয়ম অনুযায়ী পেপারবুক প্রস্তুত হবে’ বলে জানান সাইফুর রহমান।
বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদ- দিলে ওই রায় কার্যকর করতে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলা শুনানির পর্যায়ে আসে। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পাবনার ঈশ^রদী স্টেশনে সংঘটিত ওই ঘটনায় করা মামলার পর বিচারিক কার্যক্রম শেষে গত ৩ জুলাই রায় ঘোষণা করেন পাবনার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী। রায়ে ৯ জনকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। এছাড়া ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদ- দেওয়া হয় রায়ে।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কে এম আখতারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু (পলাতক), বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মোকলেসুর রহমান ওরফে বাবলু ও তার ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, আরেক ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান ওরফে পলাশ, বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম অটল, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, স্বেচ্ছসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে শাহীন ও বিএনপির সাবেক নেতা শামসুল আলম।
