কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মুফিদ আলম (৩৯) নামের এক ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছেন। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া বালিকা মাদ্রাসার পেছনে নাফ নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ হাজার ইয়াবাসহ ২টি দেশীয় এলজি ও ১০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা এবং তিন সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
নিহত মুফিদ আলম টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে। তার ৩ স্ত্রী ও ৫ ছেলেমেয়ে রয়েছে।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘টেকনাফ থানা-পুলিশের একটি দল রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে যায়। এ সময় নয়াপাড়া বাজার থেকে চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি মুফিদ আলমকে আটক করা হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায় নয়াপাড়া বালিকা মাদ্রাসার পেছনে একটি ইয়াবার বড় চালান মজুত রয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মতে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মুফিদ আলমের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে একপর্যায়ে সংবদ্ধ ইয়াবা কারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুফিদ আলমকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় টেকনাফ থানা-পুলিশের এএসআই অহিদ, কনস্টেবল রুবেল মিয়া ও মনির হোসেন আহত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের টেকনাফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি প্রদীপ আরও জানিয়েছেন, নিহত মুফিদ আলমেরর বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী বলেন, মুফিদ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটির সহসভাপতির পদে রয়েছেন। তিনি দলের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। ইয়াবা চোরাকারবারি বিএনপি-জামায়াত সব দলের মধ্যে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায়ভার দল নেবে না।
