ভুট্টা, ধানসহ অন্যান্য ফসল দ্রুত শুকানোর মেশিন আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশি গবেষকরা। দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে একদল গবেষক টু স্টেজ গ্রেইন ড্রায়িং মেশিন তৈরি করেন।
এটিই দেশের প্রথম কৃত্রিম পদ্ধতিতে দ্রুত শস্য শুকানোর মেশিন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দিনাজপুরের এলমিস অটো রাইস মিলে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এই মেশিন বসানো হয়েছে।
মেশিন উদ্বোধন করেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবীর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. বি.কে বালা, হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক, আইআরটি এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. তারিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ অনেকে।
কৃত্রিম এই মেশিনের প্রজেক্ট সম্পর্কে গবেষক প্রধান ইনভেস্টিগেটর প্রফেসর ড. সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘মসলা জাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে টুকিটাকি ফাস্ট স্টেজ ড্রায়িং টেকনিক ছাড়া গ্রেইনের (ভুট্টা, ধান) জন্য আমাদের দেশে টু স্টেজ গ্রেইন ড্রায়িং টেকনিক নিয়ে কোথাও কাজ হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমরাই প্রথম এই টেকনোলজি উদ্ভাবন করেছি।
এটি পরিবেশবান্ধব বিধায় পরিবেশে ও জীব বৈচিত্রের প্রতি এর কোনো বিরুপ প্রভাব নেই। এই মেশিনে ভুট্টা, ধানের প্রোটিন সঠিক পরিমাণে থাকে।
বর্তমানে এই পদ্ধতিতে প্রথম স্টেজে ভুট্টা বা ধান ফ্লুডাইজড বেড ড্রায়ার ব্যবহার করে মাত্র ৪ মিনিটে ২৮ শতাংশ আর্দ্রতা থেকে ২০ শতাংশ আর্দ্রতায় নিয়ে আসা যায় এবং দ্বিতীয় স্টেজে এলএসইউ, সান ড্রাই পদ্ধতি ব্যবহার করে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় ২০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নিয়ে আসা যায়।
তিনি আরও বলেন, খুবই কম খরচে এই মেশিনে কৃষকরা ভুট্টা, ধান শুকানোসহ যাবতীয় কাজ করতে পারবেন। আমরা চাইছি কৃষকদের হাতের নাগালে এই মেশিন পৌঁছে দিতে। যাতে কৃষকরা উপকৃত হয়। ফসল ফলিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
অনুষ্ঠানে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবীর বলেন, ‘কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় কৃষি বিষয়ক গবেষণার উপর অর্থায়ন করে থাকে। আমাদের দেশে বিশেষ করে বর্ষাকালে যে ধান, গম, ভুট্টার চাষ হয় এটি শুকানো আসলেই অনেক কঠিন কাজ। সেক্ষেত্রে এই মেশিন গুরুপ্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি।’
মেশিন উদ্ভাবনে প্রজেক্ট কো-ইনভেস্টিগেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ড. মো. মফিজউল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মমিন শেখ।
এছাড়াও গবেষণা সহকারী হিসেবে ছিলেন মো. হাছান তারেক ও মো. আখতারুজ্জামান এবং গবেষণা ফেলো হিসেবে ছিলেন এজাদুল ইসলাম।
