ফরিদপুরের গত চার দিনে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলা নিম্নাঞ্চলের উজান থেকে নেমে আসা পানি প্রবেশ করেছে। এরই মধ্যে জেলার তিন উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গায় পদ্মার পানি ঢুকে পড়েছে।
ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পয়েন্টের গেজ রিডার ইদ্রিস আলী জানান, ২৪ ঘন্টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরো ২০ সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শুক্রবার সকাল ৬টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার (৯ দশমিক ১৯) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর এবং ভাঙা উপজেলায় ৪২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে পানিবন্দী মানুষের মাঝে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের দূর্গতদের মাঝে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা রহমানের নেতৃত্বে দেড় শ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম রেজা, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সাহিদুর রহমান, নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, বন্যার্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি চিড়া, এক কেজি করে ডাল, চিনি, লবন, তৈল এবং হাফ কেজি নুডুস দেওয়া হয়।
ফরিদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা রহমান জানান, ফরিদপুর এখনো বন্যাকবলিত জেলায় পরিণত হয়নি। তবে বন্যার আশংকায় আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে তিন উপজেলা ৪২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
