যমুনার পানি কিছুটা কমলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি আট সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও নতুন করে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন করে উজান থেকে পানি ছড়িয়ে পড়ছে ভাটির এলাকাগুলোর দিকে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জামালপুর পৌর এলাকার রামনগর, তিতুলিয়া, দেওড়পাড় চন্দ্রসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। জামালপুরের ৬৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৬১ট ইউনিয়নেই এখন বন্যা। এখনো পানিবন্দী হয়ে আছে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। আট দিন ধরে যমুনার পানি বিপৎসীমার উপরে থাকায় বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে পানিবাহিত রোগ। বন্ধ রয়েছে ৯৮৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ও গো-খাদ্যের চাহিদা তীব্র হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ দুর্গতদের। বন্যার পানি এখনো রেললাইনের উপরে থাকায় পাঁচদিন ধরে জামালপুরের মেলান্দহ-ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ লাইনে এবং তিনদিন ধরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী-বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ট্রেন চলাচাল বন্ধ রয়েছে।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় জানান, শুক্রবার সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আবু বক্কর(৫০) মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। পরে তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
অপরদিকে ইসলামপুরের গিলাবাড়ি এলাকায় মশিউর রহমান (৩০) নামে এক যুবকের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার ছামিউল মন্ডলের ছেলে।
