উচ্চশিক্ষায় শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষাখাতে, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শৃঙ্খলার অভাব। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনাসহ সর্বক্ষেত্রেই অসহিষ্ণুতা, ধৈর্যের অভাব বা সাধারণ শৃঙ্খলাবোধের অভাব। এই শৃঙ্খলাই আমাদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শিক্ষাখাতকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা শিগগিরই একটা লক্ষে পৌঁছাব।’
রোববার দেশের একমাত্র মেরিটাইম বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর স্থায়ী ক্যাম্পাসের গ্রাউন্ড ব্রেকিং (ভূমি উন্নয়নকাজ) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু চিটাগাং বেভিউতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এই বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় অনেকাংশে গৌরবোজ্জ্বল নৌ-বাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় যেইভাবে শুরু করেছে আমি বিশ্বাস করি সেই চ্যালেঞ্জ বা শৃঙ্খলার যেই সংকট তা আমরা নিশ্চয়ই অতিক্রম করতে পারব। আমাদের অ্যাকাডেমি ক্যাপাবিলিটি আছে। মেধার কোন অভাব নেই। কিন্তু উচ্চশিক্ষায় যেইভাবে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন, তা কেন হচ্ছে না? তার কারণ, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলার অভাব আছে। সেই অভাব আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে না। এই মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার প্রসার, সমুদ্র গবেষণা, সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে প্রয়োজনীয় তত্ত্ব আবিষ্কার, আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যে বিশাল সমুদ্র সীমা অর্জন করেছি। বঙ্গবন্ধু আইন পাস করার মাধ্যমে সমুদ্রসীমা অর্জনের জন্য পথ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। যা তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক আদালতে দুই প্রতিবেশির সাথে আলাপ-আলোচনা ও মীমাংসার করে রায়ের মাধ্যমে আমদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এসবের জন্য আমাদের গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই সম্ভব।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহিদুল্লাহ, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ দেশের প্রথম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়। বিশ্বের ১২তম মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চট্টগ্রামের বন্দর থানার চর বাকলিয়া ও চর রাঙামাটিয়া মৌজার হামিদচর এলাকায় ১০৬ একর জমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হবে।
