পুলিশের সোর্স হাসু হত্যার প্রধান আসামি রাজিব গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৯, ১০:৫৬ পিএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সোর্স মাহবুব হাসান হাসু হত্যার প্রধান আসামি রাজিব ওরফে শুটার রাজিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, বাহিনীটির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির কারণে হাসুকে খুনের কথা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন রাজিব। জবানবন্দি শেষে তাকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ নিয়ে সোর্স হত্যার ঘটনায় চার আসামির সবাই গ্রেপ্তার হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গলাচিপা হাসান, জামাল ও রমজান নামের তিনজন। তাদের সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই সাদিকুর রহমান জানান, প্রধান আসামি রাজিব আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, বন্ধু গলাচিপা হাসান, জামাল ও রমজানের সঙ্গে কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা করতেন। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা হাসুর সঙ্গে তাদের সখ্য ছিল অনেক দিনের। ঘনিষ্ঠতার সূত্রে হাসু তাদের মাদক ব্যবসার সব খবর জানতেন। এ কারণে প্রায়ই তাদের কাছে পুলিশের কথা বলে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাইতেন হাসু। চাঁদা না দিলে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিতেন।

রাজিবের বরাত দিয়ে এসআই আরও জানান, হাসু রাজিবসহ চার বন্ধুকে কয়েকবার পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে মামলা করে জেলও খাটিয়েছেন। আর কিছুদিন পরপরই চাঁদা দাবি করতেন হাসু। চাঁদা দিলে কিছু দিন ঠা-া থাকতেন। এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে হাসান, রাজিব, জামাল ও রমজান মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত বছরের ১২ এপ্রিল ভোরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে এনে তারা বাসার সামনেই হাসুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এরপর ওই এলাকার নাইডগার্ড হাসুর পরিবারকে খবর দিলে তারা তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসুকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় হাসুর বড় বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার বাদী বলেন, ‘আমার ভাই নিহত হওয়ার আজ প্রায় দেড় বছর পর হত্যার মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। আশা করি আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুবিচার পাব।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, সোর্স হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা সবাই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মূল হোতা শুটার রাজিবের নামে ভিন্ন ভিন্ন থানায় কয়েকটি মামলা আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত