ছেলেধরা সন্দেহে ২ যুবককে পিটিয়ে হত্যায় ছয়জন গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৬:৩৭ পিএম

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে দুই অজ্ঞাতনামা যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় মডেল থানা পুলিশ কমপক্ষে পাঁচ শ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। দুই মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার ছয়জনের তিনজন হচ্ছে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গার থানা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারতরা হচ্ছে কামাল খান (২৬), মো. জামাল (৩২), মো. শাহআলম (২৮), মো. হাবিবুর রহমান (৩৮), হৃদয় মন্ডল (২০) ও জয় বাড়ৈ (২০)।

একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এস আই বিপুল চন্দ্র জানান, শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গার থানার চরবাগুলি গ্রাম থেকে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাতনামা দুই যুবককে ধাওয়া দিলে তারা (অজ্ঞাত যুবক) দৌড়ে পাশ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনয়নের রসুলপুর গ্রামে ঢুকে পড়েন। এদিকে রসুলপুর গ্রামের লোকজন পাশ্ববর্তি গ্রামে ডাকচিৎকার শুনে ডাকাত পড়েছে ভেবে আগে থেকেই লাঠিসোটা নিয়ে প্রস্তুত থাকে। দৌড়ে অজ্ঞাত যুবকরা রসুলপুর গ্রামে আসলে গ্রামবাসি তাদের গতি রোধ করে দৌড়ে পলানোর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় চরবাগুলি গ্রামের লোকজন তাদের পিছু নিয়ে চলে আসে, তখন তারা জানায় এরা ছেলে ধরা। এ বলেই চরবাগুলি গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা দিয়ে পিটানো শুরু করলে রসুলপুর গ্রামের লোকজনও ওই দুই যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় ওই দুই যুবকে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের মধ্যে একজন মারা যায় অপরজন এখনো অশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায়  কলাতিয়া ফাড়ির এস মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করলে মঙ্গলবার বিকেলে সিঙ্গার থানার চরবাগুলি গ্রাম থেকে কামাল খান, মো. জামাল ও মো. শাহআলমকে গ্রেপ্তার করি পরে হযরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম থেকে মো. হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করি।

অপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সাদিকুর রহমান জানান,গত বৃহস্পতিবার রাতে অত্রমানার খোলামোড়া এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে এলাকাবাসী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় ইউপি মেম্বারের সহযোগিতাায় পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুদিন পরে শনিবার আহত ওই যুবকের মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে পুলিশ খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এস আই সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।  মঙ্গলবার রাতে খোলামোড়া এলাকা থেকে হৃদয় মন্ডল ও জয় বাড়ৈকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, দুটি ঘটনায় অনাকাঙিখত ও দুঃখজনক। নিহত অজ্ঞাতনামা যুবক দুটি যদি ছেলেধরা হয়ে থাকত তাহলে দেশে আইন রয়েছে, তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারত। গ্রামবাসী তা না করে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই এ হত্যায় জড়িত রয়েছে বলে তারা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত