ভুল থেকেই সবচেয়ে বেশি শিখেছি : কোহলি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯, ০১:৫৮ এএম

সবার কাছে আপনি রোল মডেল। সবাই আপনাকে ফলো করে। বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হওয়ায় এই সুনাম নিয়ে এগোনো কতটা সহজ বা কঠিন?

 আসলে আমি জীবনের সব থেকে বড় শিক্ষাগুলো পেয়েছি ভুল বা হতাশা থেকে। সবচেয়ে বাজে ভুলগুলো আমাকে শুধু সামনে এগোনোর শক্তিই দেয় না, মানুষ হিসেবেও পরিণত করে। ওই কঠিন সময়গুলো জীবনে যে কতটা প্রয়োজন তা বুঝিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, এই সময়গুলোতে আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষ কে তা জানতে পারবেন। আর তৃতীয়ত, এই ভুল বা ধাক্কাগুলো আপনাকে শক্ত হতে সাহায্য করে। কারণ এগুলো সবসময় হঠাৎ করেই আসে। ওই ধাক্কাগুলো সয়ে এগিয়ে যেতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার মতো কঠিন সময়ে দলকে কীভাবে সামলান?

 দ্বিপক্ষীয় সিরিজের তুলনায় কোনো টুর্নামেন্টে দলের প্রতি চাওয়াটা থাকে বেশি। এটা আমরা জানি। কিন্তু সেই চাওয়া অনেক সময় পূরণ করতে পারি না। তখন নিজেদের অর্জনগুলো নিয়ে কথা বলি। নিজেদের মধ্যে বলি যে, যা এসেছে তা নিয়ে গর্ব করা উচিত। যতটুকু উচ্চতায় এসেছি তা নিজেদের সাফল্যে। এ বিষয়টা কখনই ভুলে যাওয়া উচিত না। কারণ যখনই শুধু ব্যর্থতা নিয়ে ভাববেন শুধু শুধু চাপে পড়তে হবে আপনাকে।

ভারত দলটা এখন পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অনেক নতুন ক্রিকেটার উঠে আসছেন। বিভিন্ন জায়গায় কে কেমন করে দেখা হচ্ছে। এ সময়ে আপনার দায়িত্বটা কী। এখন আপনি একজন লিডার। নিজের ক্যারিয়ারকে এই পর্যন্ত কীভাবে দেখছেন?

 আমি মনে করি ধারাবাহিকতা আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। হাল ছেড়ে দিলে সবকিছু শেষ হয়ে যেত। আগেও বলেছি ভুলগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি শিখেছি। ওই সময় হেরে গেলে আমি এতদূর আসতাম না। এখন অধিনায়ক হিসেবে আমার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। আমাকে অবশ্যই ভালো কাজ করে যাওয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। সবাইকে ভালো খেলার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যেন ভারত আরও শক্তিশালী হয়। একটা দিকে আমার কাজ সহজ হয়েছে। সেটা হলো, আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি ম্যাচ উইনার উঠে আসছে। এতে ক্রিকেটারদের নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হচ্ছে না।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আসছে। দুই বছর পর ফল আসবে এমন একটি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি আপনি কীভাবে নিতে চান?

 এটা সত্যিই রোমাঞ্চকর। টেস্ট ক্রিকেটকে সবার কাছে চাঙ্গা করতে সঠিক সময়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হয়তো আমরা দ্বিপক্ষীয় সিরিজই খেলছি কিন্তু এর গুরুত্ব ও অর্থ এর চেয়েও অনেক বেশি। এখানে আমাদের প্রতিটি সিরিজ নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে। যেদিন প্রথম এ ব্যাপারে শুনেছিলাম তখনই রোমাঞ্চিত হই খেলার জন্য, এতদিনে এটি শুরু হচ্ছে।

নতুন ক্রিকেটারদের জন্য আপনি ফিটনেস গুরু হয়ে উঠেছেন। ভারত দলে ফিটনেস বিপ্লব এনে দিয়েছেন। বিষয়টি কি এমন যে আপনার দলে খেলতে হলে দারুণ ফিটনেস থাকতে হবে?

 মোটেই না, আমি কাউকে ফিটনেসের ব্যাপারে কিছু বলি না। এটা এমনিই হয়ে যাচ্ছে। ২০১২ অস্ট্রেলিয়া সফরে আমি প্রথম উপলব্ধি করি ফিটনেস ঠিক না হলে ম্যাচ খেলা কঠিন। এরপর থেকেই যুদ্ধ শুরু করি। এখন আমাকে দেখলে কেউ বলবে, তার তো দলে জায়গা পাকা, যে যেভাবে ইচ্ছা ব্যাট চালাতে পারে। তবুও ফিটনেস নিয়ে এত কষ্ট করছে! তাহলে আমাদেরও ওকে অনুকরণ করা উচিত। তাই এখন ফিটনেসের ব্যাপারটা এভাবেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

আপনার এই সাফল্যের মূল রহস্যটা কী?

 আমি সত্যিই নিজের বর্তমান অবস্থার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। যখন ক্রিকেট শুরু করি তখন মোটেও ভাবতে পারিনি যে এতদূর আসব। কল্পনাও করিনি কখনো। জানতাম আমার উঁচুমানের স্কিল নেই। কিন্তু যা আছে তা হলো, কঠোর পরিশ্রম করতে পারার ইচ্ছা ও চেষ্টা। মনে হয় ঈশ্বর আমার এদিকটা দেখেছে। ঠিক এ কারণেই আমি একটি ফাউন্ডেশন খুলেছিÑ বিরাট কোহলি ফাউন্ডেশন। যার মাধ্যমে আমি অ্যাথলেটদের সাহায্য করি। আমি চাই না আর কোনো ক্রীড়াবিদ আমার মতো অনিশ্চয়তা থাকুক। আমি চেষ্টা করে সফল হয়েছি কিন্তু অনেকেই আছে যথাযথ পরিচর্যা ও অর্থের অভাবে এগোতে পারছে না বা সাফল্য পাচ্ছে না। কিন্তু এই সাহায্যগুলো পেলে সে ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়াবিদ হতে পারে। আমরা বিশেষ করে অলিম্পিক ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদদের নিয়ে কাজ করছি। যেহেতু তাদের সুযোগ-সুবিধা কম।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত