মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেপ্তারের দাবি রিফাতের বাবার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৯ পিএম

তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিন্নির বাবা পিবিআই ও সিআইডির তদন্ত দাবি করছেন বলে অভিযোগ করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়েছেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। এর আগে গত ২৪ জুলাই মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের কাছ থেকে মামলাটিকে পিবিআই তদন্তের দাবি জানান।

শুক্রবার দুপুর ১টায় বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় নিহত রিফাত শরীফের চাচা আবদুল আজিজ শরীফসহ পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিল।

রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিহিত করে নিহতের পিতা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ লিখিত বক্তব্যে বলেন, মিন্নিসহ ১৫জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৫ জন আসামিই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার সামগ্রিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে চললেও প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে কেউ কেউ।

দুলাল শরীফ বলেন, আমি মামলার বাদী আমি মনে করি তদন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হচ্ছে কিন্তু আসামিরা মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে পিবিআই ও সিআইডি তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। এটা কোনভাবেই মানা যায় না যে মামলার আসামি হয়ে মামলার তদন্ত পরিবর্তনের দাবি জানায়, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোন ষড়যন্ত্র আছে। পুলিশের তদন্তে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার পেছনে মিন্নিই ষড়যন্ত্র করেছে। এর আগেও এসআই আসাদ, ওবায়দুল ও এএসআই সোহেল খান, নয়ন বন্ড ও মিন্নি চলতি বছরের ১১ মে আমার ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জেল হাজতে পাঠায়।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনো চারজন গ্রেপ্তার হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত