সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোন ব্যবস্থা এই মুহূর্তে গ্রহণ করা উচিত হবে না যেটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছায়। এ বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন সাবেক মানবাধিকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান ।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে কক্সবাজার ফোরাম আয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যা মহাসংকটে কক্সবাজার ‘শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে রোহিঙ্গারা জামাই আদর পাওয়ার কথা। বাংলাদেশ যদি তাদেরকে জামাই আদর করে থাকে তাহলে সরকারকে সাধুবাদ জানাব। কক্সবাজারবাসী আছেন তারা হয়তো আমার কথায় দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আমি কখনো মনে করি না রোহিঙ্গাদের ভাষাণচর বা অন্য কোন জায়গায় স্থানান্তর করা উচিত।’
যদি অন্য কোন জায়গা বাছাই করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সেখানে পাঠানো হয় তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে, আমরা তাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত না হলেও দীর্ঘকালীন একটি বন্দোবস্ত করেছি। তখন সেটা দেখে আন্তর্জাতিক মহল মুচকি মুচকি হাসবে। তারা ভাববে বিষয়টি হয়তো সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এই বার্তাটি আন্তর্জাতিক মহলে কখনো দেওয়া উচিত হবে না বলে জানান সাবেক এ মানবাধিকার কমিশনার।
মিজানুর রহমান উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘যারা রোহিঙ্গাদের কাছাকাছি রয়েছেন বা নিত্যদিন তাদের চাপ নানাভাবে সহ্য করছেন তাদের জন্য অবশ্যই রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। এটিও নজরে আনা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘যারা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, যারা তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, জমি কিনায় সহযোগিতা করেছে, সেই সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই জন্য রোহিঙ্গাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কোনও লাভ নেই। সেটা বোধ হয় সভ্যতার পরিচয় বহন করবে না।’
গোলটেবিল বৈঠকে আরও অপস্থিত ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার ফোরামের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ এবং সদস্যসচিব সুজন শর্মাসহ ফোরামের অন্যান্য সদস্য।
