যমুনা ছাড়া অন্যান্য প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়ে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বন্যার পানি নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই যমুনা, পদ্মা, তিস্তা, ধরলা, ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। বিলীন হয়ে গেছে ওইসব নদীর পাড়ের ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা অবকাঠামো। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা মনে করছেন, পানি আরও কমলে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়বে। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নিলে বিলীন হয়ে যেতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকার জনপদ।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে জানান জেলার পদ্মা, যমুনা, পুরনো ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে যমুনার ভাঙনে ইতিমধ্যে দৌলতপুর উপজেলার চরকাঠি ও বাঁচামারা ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেখানে এখনই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ইউনিয়ন দুটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
তিনি জানান, ভাঙন প্রতিরোধে অন্যান্য এলাকায় ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে কবলিত এলাকায়। তবে পানি আরও নামতে শুরু করলে নতুন করে ভাঙন দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আবারও জিও ব্যাগ ফেলতে হবে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, পদ্মার পানি গত কয়েক দিনে কমে শুক্রবার বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানি নেমে যাওয়ায় জেলার সদরপুর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ, চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা এবং মধুখালী উপজেলায় মধুমতি নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সদরপুরের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে।
তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনকবলিত এলাকায় বালির বস্তা ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করছে।
নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের মৌলভীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চিথুলিয়া দিগর ও ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী গ্রামসহ বেশ কিছু এলাকা। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিগাবাড়ী গ্রামে কাজ করলেও মৌলভীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বন্যার আগে চিথুলিয়া দিগর গ্রামের ৫৫টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য বাহার উদ্দিন। নদ-নদীতে পানি আরও কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করবে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে।
তিস্তাতীরবর্তী লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাটারী কুটিরপাড় বালির বাঁধ ভেঙে বেশ কিছু বাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানির তোড়ে গোবরধন ২নং স্পার বাঁধের ৩২ মিটার অংশ ধসে যায়। পরে বাঁধের ধস ঠেকাতে প্রায় তিন হাজার জিও ব্যাগ ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বজলে করিম জানান, ধরলা ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প নামে একটি প্রস্তাবনার কাজ চলছে। আশা করা যায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ধরলার ভাঙন ঠেকানো যাবে। তিস্তাতীরবর্তী কুটির পাড় বালির বাঁধ এলাকায় কাজ চলছে বলে তিনি আরও জানান।
এছাড়া কুড়িগ্রামে ধরলা, জামালপুর ও শেরপুরে যমুনা, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর পাড় ভেঙে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা অবকাঠামো। এসব এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পানি আরও কমলে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়বে। তবে তা প্রতিরোধে তাদের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।
