কিছু লোক সারাক্ষণ আমাকে ফলো করে: মিন্নির বাবা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ০৭:৩৮ পিএম

অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজন ঘিরে থাকায় মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সময় কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে ভালো নেই, জেলখানায় বিনা চিকিৎসায় আমার মেয়ে মারা যাবে। মেয়ের সঙ্গে একটু কথা বলব তাও পারছি না, কারা যেন আমাদের ফলো করে, সারাক্ষণ ঘিরে থাকে। আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে’।

শনিবার বেলা ১১টায় বরগুনা জেলা কারাগারে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও তার পরিবারের সদস্যরা। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তারা মিন্নির সঙ্গে দেখা করে বের হলে গণমাধ্যম কর্মীরা কথা বলতে চাইলে কারও সঙ্গেই কথা বলেননি তারা।

পরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কিছু লোক সারাক্ষণ আমাকে ফলো করে। আমি যেখানে যাই তারাও সেখানে যায়। জেলখানায় গিয়ে মেয়ের সাথে একটু কথা বলব তাও তাদের ভয়তে বলতে পারি না। মেয়ের সঙ্গে একটু কথা বলব তাও বলতে পারি নাই। আমার মেয়েকে দুরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, ঠিকমতো মেয়ের কথা শুনতেও পারি নাই। আমার মেয়েটা মনে হয় জেলখানায় বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে’।

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ১৬ জুলাই রাত ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৭ জুলাই ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও ৪৮ ঘণ্টা পরেই ১৯ জুলাই মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৭ টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়।

পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্নির সঙ্গে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা দেখা করে জানান, মিন্নিকে পুলিশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। ২২ জুলাই বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম হাসপাতালে নিয়ে মিন্নির চিকিৎসা ও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে আবেদন করেন। বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিন্নিকে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে আইনজীবীর হাতে হাতে ওই দিনের আবেদনপত্র ফেরত দিয়েছেন।

গত ২৪ জুলাই আইনজীবী অ্যাড মাহবুবুল বারী আসলাম কারাগারে গিয়ে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের জানান, মিন্নিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মিন্নি ভালোভাবে হাঁটতে পারেন না। তার চিকিৎসা দরকার। আজও একই কথা বলেছেন, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

যদিও ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১ টায় বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের ডা. হাবিবুর রহমান কারাগারে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির খোঁজ-খবর নিয়ে জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনো চারজন গ্রেপ্তার হয়নি।

২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত