রাজধানীর মিরপুরে হোটেল মালিক রফিকুল ইসলাম জুনায়েতকে গুলি করে হত্যার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর মামলার প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন সবুজ ওরফে শুটার সবুজকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে রাজধানীর কুড়িলের যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাবি, সবুজ মিরপুর এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহদাত বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড। শাহদাতকে কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দারুস সালাম এলাকার শাহজালাল আবাসিক হোটেলের মালিক জুনায়েতকে গুলি করে হত্যা করে সবুজ ও সহযোগীরা।
পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, জুনায়েত হত্যার ঘটনায় তার ভাই ডা. সাঈদ হোসেন সোহাগ দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ হত্যায় জড়িত সন্দেহে আসামি সোহেল ওরফে শুটার সোহেল (৩৫) ও মৃদুল ওরফে বাবু ওরফে মির্জাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার তদন্ত করে আনোয়ার হোসেন পলাশ ও আব্দুর রহিম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবি ৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেয়। দুই আসামিকে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়ায় বাদী আদালতে নারাজি দেন। পরে আদালত পিবিআইকে মামলা তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। পিবিআইয়ের পরিদর্শক জুয়েল মিঞা দীর্ঘ তদন্ত করে শুটার সজীবকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেন।
পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার আরও জানান, হোটেল মালিক জুনায়েতের কাছে শাহদাতের পরিচয় দিয়ে কয়েক দফা চাঁদা নেওয়া হয়। হত্যার কিছুদিন আগে এক কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ভারতীয় একটি নম্বর থেকে ফোন করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান আসামি সবুজ, সোহেল, শেখ মৃদুল, আবদুর রহিম, পলাশ এবং তাদের সহযোগীরা হত্যার পরিকল্পনা করে।
