মেহেরপুরে একদিনে ৬ ডেঙ্গু আক্রান্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে এক স্কুল শিক্ষক এবং একজন নারী ইউপি সদস্য রয়েছেন। আক্রান্ত তিনজন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং বাকি তিনজন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় সরকারিভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষার স্ট্রিপ সরবরাহ না করায় সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কাজ পরিচালনা নিয়ে অপ্রস্তুত জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
ডেঙ্গু আক্রান্তরা হলেন- গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পাড়ার হোসেন আলীর স্ত্রী উম্বিয়া খাতুন (৩৫), চৌগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নাছিমা খাতুন (৫৫) ও কষবা গ্রামের বাসিন্দা ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুফিয়া খাতুন (৪৮)। মেহেরপুর পৌরসভার ১ নং ওর্য়াডের হাসান আল মামুন (২১), সোনাপুর গ্রামের হ্রিদয় মিয়া (১৮) ও কুতুবপুর গ্রামের জান্তাতুল খাতুন (১৭)। তাদেরকে হাসপাতালের কেবিনে আলাদা করে মশারির মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সুফিয়া খাতুন জানান, তিনি গেল ২৬ জুলাই ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে এক রোগীর কাছে রাত কাটিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পর তার জ্বর শুরু হয়। বৃহস্পতিবার গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তির পর তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা রিপোর্টে ডেঙ্গু পজিটিভ।
উম্বিয়া খাতুন ও নাছিমা খাতুন জানান, তারা ঢাকাতে অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতে ফেরেন। পরে বেশি অসুস্থ হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাদের ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করেছেন। সরকারি সুবিধা না থাকায় বাইরে থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষার স্ট্রিপ চড়া দামে কিনে আনতে হয়েছে।
গাংনী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সজীব উদ্দীন স্বাধীন জানান, স্থানীয় পর্যায়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে মেহেরপুরসহ দেশের ৫ জেলা ডেঙ্গুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। এর ৪ দিন পর একইদিনে ৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ঘটনায় অপ্রস্তুত তারা।
সরকারিভাব হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় স্ট্রিপ সরবরাহ নেই এই জেলায়। ফলে, বাইরে থেকে চড়া দামে স্ট্রিপ কিনতে হচ্ছে রোগীদের। দ্রুতই সরকারিভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষার স্ট্রিপ সরবরাহ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু সচেতনতা উপলক্ষে সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে ডেঙ্গু রোগের উৎস, করণীয় ও চিকিৎসার বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন বক্তরা।
সিভিল সার্জন ডা. শামীম আরা নাজনীনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, পুলিশ সুপার প্রতিনিধি, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বক্তব্য দেন।
ডেঙ্গুতে কাউকে আতঙ্ক না হবার আহ্বান জানান বক্তারা। জেলার ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সভায় অংশ নেয়। মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, এডিস মশা নিধনে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালসহ শহরের আনাচে-কানাচে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শুরু হয়েছে।
গাংনী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সজীব উদ্দীন স্বাধীন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আবার এটা এড়িয়ে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তাই সকলে মিলে যদি এ ব্যাপারে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। তাহলে ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব।
মেহেপুর সিভিল সার্জন ডা. শামীম আরা নাজনীন জানান, জেলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবলেরও সঙ্কট রয়েছে। এই অবস্থায় ডেঙ্গু সবার জন্যই বাড়তি চাপ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সকলকে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়ছে।
