পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে মাদারীপুরের কালকিনিতে দেড় বছরের শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই মা মৌসুমী বেগমকে রোববার ভোরে গ্রেপ্তার করে কালকিনি থানা পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রামের সিরাজ মোল্লার ছেলে মনির মোল্লার সঙ্গে পৌর এলাকার চরঠেঙ্গামাড়া গ্রামের গিয়াসউদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে মৌসুমীর (২৬) পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়।
দেড় বছর আগে তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান আসে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
এরই জের ধরে স্ত্রী মৌসুমী তার বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে স্বামী মনির মোল্লা শনিবার বিকেলে তার স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ি যায়।
এ সময় দুইজনের মাঝে নতুন করে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এতে করে মনির মোল্লা স্ত্রী-সন্তানকে না নিতে পেরে অভিমান করে খালি হাতে নিজ বাড়ি চলে যায়। এ সুযোগে শনিবার সন্ধ্যায় মৌসুমী বেগম তার দেড় বছর বয়সী শিশুপুত্র তারা মিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহত শিশুর বাবা মনির মোল্লা বলেন, ‘মৌসুমী আমার সঙ্গে ঝগড়া করে আমার শিশু সন্তানকে হত্যা করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’
কালকিনি থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন জানান, শিশুপুত্র তারা মিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার মা মৌসুমী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বদরুল আলম মোল্লা বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর মা দাবি করেন- মনির মোল্লা শিশু সন্তানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে এবং আছাড় মেরে হত্যা করে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি। এরপর মা মৌসুমী বেগম দাবি করেন শিশুসন্তান তারা মিয়াকে একটি কেক খাওয়ানোর পর সে মারা যায়।’
ময়নাতদন্তের পরই শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
