যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন জনসন

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:০৮ পিএম

যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষকে বরিস জনসন জানাতে চান যে তিনি দেশকে অনেক ভালোবাসেন। বিশেষত তিনি ইউনিয়নভুক্ত চারটি অঞ্চলের প্রতি নিজের ভালোবাসার গভীরতা বোঝাতে ব্যাপক চেষ্টা করেন সর্বশেষ সফরে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার এই ভালোবাসা সহজভাবে নেয়নি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জনগণ।

ওয়েলসে সফরকালে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার মার্কডার্কফিল্ড বলেন, জনসনের পরিকল্পনায় বিস্তারিত তথ্যের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এমনকি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডেও চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। জনসনকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডবাসী সহজভাবে নেয়নি। প্ল্যাকার্ডে ‘ব্রেক্সিট মানে সীমান্ত’ লিখে প্রতিবাদ জানায় তারা।

ইউনিয়নের কোথাও জনপ্রিয়তা নেই জনসনের। নর্দার্ন আইরিশ শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়ার মাঝেই সহিংসতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। সেই ক্ষত আজও ভুলে যায়নি আইরিশরা। জনসন নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষে ইউনিয়নের অখ-তা ধরে রাখা সম্ভব না বলে মনে করে সিএনএন। যদিও সবকিছু ব্রেক্সিটের ওপর নির্ভর করছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রব ফোর্ড বলেন, ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিট যদি যুক্তরাজ্য ভেঙে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়, তাহলেও আমি অবাক হব না। ব্রেক্সিটের প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন ইংলিশ ভাষাভাষীদের। এখন তারাও ব্রেক্সিটকে আর ভালো কিছু হিসেবে দেখছে না।’ যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ ইংল্যান্ড। ব্রেক্সিটের মূল উদ্দেশ্যই ইংল্যান্ড ফার্স্ট বা ব্রিটেন ফার্স্ট। এখানেই ব্রেক্সিট সংক্রান্ত রাজনীতি। আইরিশ সাগর অতিক্রম করলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ব্রেক্সিটপন্থিদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিয়নিস্টরা, তারা মূলভূমি যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার চিন্তা করতে পারে না।

আইরিশ ইউনিয়নিস্টরা দুই আয়ারল্যান্ডের মাঝে যেকোনো মূল্যে সীমান্ত দেখতে চায় না। কট্টরপন্থি আইরিশ রিপাবলিকানরা চায় দুই আয়ারল্যান্ডের মধ্যে ঐক্য। আর ইংলিশ ভাষাভাষীরা এখনো দুই আয়ারল্যান্ডের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায় রাজনৈতিক কারণে। গত ২০ বছরে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কোনো নাগরিককে নিজেদের ইউনিয়নিস্ট বা রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিতে দেখা যায়নি। অধ্যাপক রব ফোর্ডের ভাষ্যে, ‘পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন স্বাধীনতাপন্থিদের বিরোধীরাও ব্রেক্সিটের পক্ষে জোট বেঁধেছে। কেন লন্ডন বা ব্রাসেলসের আইন মেনে চলতে হবে, এমন চেতনা এখন প্রচণ্ডভাবে কাজ করছে ইউনিয়নে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত