বিপ্লব, লড়াই, তারুণ্যের স্পর্ধিত প্রখর স্পন্দনের সঙ্গে আরও কত কী যে ছিল তার মাঝে! মাত্র স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশকে টিনএজ পেরোনো মানুষটি তার বয়সের চেয়ে অনেকগুণ পরিণত মানসিকতায় অনেক দিক দিয়ে বদলে দিতে চেয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের ময়দান থেকে খেলার ভুবন, সেখান থেকে সংস্কৃতির অঙ্গনে বৈশ্বিক মানসিকতা তৈরিতে ছিলেন যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বহুমাত্রিক গুণাবলির অমিত প্রতিভাবান অনন্য এক স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ কামাল ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গনের সংগঠক হিসেবে সাফল্যে ছুটছিলেন দ্রুত। সেই সঙ্গে দেশ। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডিতে তখন পরিবারের যারা ছিলেন তাদের সবার সঙ্গে বুলেট ছিন্নভিন্ন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বড় পুত্রকেও। ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যে বৈশ্বিক মানুষটির জন্ম হয়েছিল, ২৬ বছর বয়সেই সমাধি। তবে বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক জগৎকে ভিন্ন এক উচ্চতায় তুলে নেওয়ার প্রধান উদ্যোক্তাকে এই ভূমি ভোলে কীভাবে?
গতকাল সোমবার ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, উদ্যম আর সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মাতৃভূমিকে স্বপ্নের ভুবন তৈরির কারিগরি দিকের মূল উদ্যোক্তা শেখ কামালের ৭০তম জন্মবার্ষিকী। ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্রীড়া চক্রের স্রষ্টা, ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাকে আওয়ামী লিগ, তাদের অঙ্গ সংগঠন, সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে ক্রীড়াভুবনও শ্রদ্ধা জানিয়েছে দেশজুড়ে। ধানমন্ডির আবাহনী লিমিটেড মাঠও গোটা দিন ব্যস্ত ছিল অনন্য মানুষটিকে পরম আদর-ভালোবাসা-সম্মান-মর্যাদায় স্মরণ করতে। তার বৈচিত্র্যময় জীবনকে ছবিতে তুলে এনে ‘শেখ কামাল : উদ্দীপ্ত তারুণ্যের দূত’ শিরোনামে সকালে ছিল চিত্রপ্রদর্শনী। বিকেলে বাংলাদেশের খেলাধুলায় শেখ কামালের অবদান কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করা হলো। এই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ব্যথাতুর কণ্ঠে ফিরে গেলেন সেই সময়ে। বন্ধু হারানোর ক্ষত বুকে নিয়ে ফেরা দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রের নানা দিকে জড়িয়ে থাকা সালমান বললেন, ‘আমার সৌভাগ্য আমি নিজেকে শেখ কামালের বন্ধু বলে দাবি করতে পারি।’ পেছনে গিয়ে মনে করেন, ‘পঁচাত্তরের পর আমরা আবাহনীর সমর্থনে এই কথাটাও বলতে পারতাম না। আবাহনীরও দুর্দিন ছিল।’ সালমানের দৃঢ় বিশ্বাস, ‘কামাল বেঁচে থাকলে ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও আমরা বিশ্বকাপ খেলতাম।’
অনেক বড় বড় নামের উপস্থিতি ছিল ওখানে। বৈশ্বিক ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সুনাম পাওয়া এবং আবাহনীকে সামনে নিতে সবসময় লড়ে যাওয়া দেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলছিলেন, ‘আবাহনী জন্য কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। শেখ কামালের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে আবাহনীকে এগিয়ে নিতে হবে।’
ছিলেন আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন, আবাহনীর ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাফুফের সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ, ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসসহ আরও গুণিজন। আবাহনী এবং দেশের খেলাকে এগিয়ে নিতে ঈদের পরই আধুনিক শেখ কামাল কমপ্লেক্স তৈরির কাজে হাত দেওয়ার ঘোষণা আসে।
খুব কাছ থেকে শেখ কামালকে দেখা এবং কাজ করা হারুনুর রশিদের ভেজাকণ্ঠ কথায় কথায় হয়ে ওঠে দৃপ্ত খুব, ‘কামালকে এই ক্লাবের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা চেষ্টা শুরু করেছিলাম, পঁচাত্তরের পর থেকেই। এখন একটা জায়গায় (ক্লাব) পৌঁছে গেছে, শেখ কামাল কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কামালের স্বপ্ন পূর্ণরূপ লাভ করবে।’
