গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৪০ পিএম

মাগুরার শ্রীপুরে গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল মোল্লার মরদেহ গতকাল বুধবার সকালে উদ্ধার হয়েছে।

খুলনা থেকে আসা দমকল বাহিনীর ডুবুরিরা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমার নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার এড়াতে মঙ্গলবার বিকেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি।

আমিরুল মোল্লা শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি।

আমিরুলের ভাই বাহারুল মোল্লা বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমিরুল শ্রীকোল বাজারে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় গ্রাম্য প্রতিপক্ষ বাহারুল মেম্বার পুলিশ নিয়ে আসে আমিরুলকে গ্রেপ্তার করতে। এস আই ওলিয়ার রহমানের নেতৃত্বে আসা ডিবি পুলিশের একটি টিম এসেই চায়ের দোকানে বসা আমিরুলকে ধাওয়া দেয়। এ সময় আমিরুল গ্রেপ্তার এড়াতে দৌড়ে কুমার নদীতে ঝাঁপ দেয়। মাঝ নদীতে গিয়ে আমিরুল হাত উঁচু করে বাঁচাও-বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় ওলিয়ার দারোগা নৌকা নিয়ে মাঝ নদীতে গিয়ে লগি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে নদীর তলদেশে দিয়ে দেয়। পরে উপস্থিত লোকজন ও শ্রীপুর দমকল কর্মীরা নদীতে নেমে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। বুধবার খুলনা থেকে দমকল বাহিনীর ডুবুরি দল এসে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

বাহারুল মোল্লার দাবি তার ভাই অমিরুল নির্দোষ। গ্রাম্য দলাদলি ও সামাজিক বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষ বাহারুল মেম্বর ষড়যন্ত্র করে তার ভাইয়ের নামে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাহারুল মেম্বর এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে আমিরুলকে পুলিশ দিয়ে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা সকালে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, আমিরুলের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত এসআই ওলিয়ার ও কনস্টেবল বুলবুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত