হাতিয়ার বিদ্যালয়গুলোর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিনা মূল্যের বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বই অধিকাংশ বিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণিতেই পড়ানো হয় না। শিক্ষার্থীদের বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ও অননুমোদিত ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ এবং গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। হাতিয়ায় ২০১৯ শিক্ষা বছরের জন্য ৩৪টি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
হাতিয়ার তমরদ্দি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আরাফাত ও এস এম সুলতান মাহমুদ বিল্লাহ জানায়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বই তাদের পড়ানো হয় না। তাদের একটি বেসরকারি প্রকাশনীর ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ এবং গাইড পড়ানো হয়, ওই বইগুলো কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। একই তথ্য জানিয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিব বিন রাব্বি লাবিব, এম কে ফিরোজ রাইজ সিয়াম ও মাসউদুর রহমান তাসনিম। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক আ স ম নেকবর ইকবাল বলেন, এনসিটিবির ইংরেজি গ্রামার বইগুলো ইংলিশ ভার্সন হওয়ায় কঠিন, শিক্ষার্থীদের বুঝতে অসুবিধা হয়, তাই অননুমোদিত গ্রামার বই পড়ানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের যোগসাজশে এসব অননুমোদিত বই পাঠ্যভুক্ত করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষই আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে।
২০১১ সাল থেকে মাধ্যমিকের সব শ্রেণির পাঠ্যবই বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বই প্রায় সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পাঠ্যতালিকাভুক্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে অননুমোদিত বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বই পড়ানো হয় বিষয়টি স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ইংরেজি গ্রামার বইগুলো ইংলিশ ভার্সনে লেখা, অধিকাংশ শিক্ষকের বই পড়াতে জ্ঞান ও দক্ষতার ঘাটতি থাকায় তারা ওই বইগুলো পড়ান না। জাহাজমারা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সোলায়মান ও দাসেরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জন দাস বলেন, এনসিটিবির ইংলিশ গ্রামার বই ভালো মানের, সেগুলো পড়ানো হলে শিক্ষার্থীদের উপকার হতো।
সুখচর ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, এ বিদ্যালয়ে এনসিটিবির বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকাশনীর অননুমোদিত বইও পড়ানো হয়। হাতিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আমির হোসেন অননুমোদিত বই পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
