সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী খন্দকার লিমানা নাজনিন।
দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যে নাজনিন ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ এবং ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্রে’ আলাদা আলাদাভাবে দুটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন স্বামী মিজানের বিরুদ্ধে।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, বাবা-মা ছেড়ে আলাদা থাকতে স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে শাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বলেন, শিক্ষক মিজানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী একটি অভিযোগ দিয়েছেন তাদের পারিবারিক সমস্যার বিষয়ে।
জানা যায়, পারিবারিকভাবে নাজনিন-মিজানের বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ৫ মে। নাজনিন শাবিপ্রবি'র ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী হওয়ায় প্রথম দিকে তাদের সম্পর্ক ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর। বিয়ের পর বর্তমানে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে তাদের।
চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্রে’ স্বামী মিজানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনেন নাজনিন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল “শাশুড়ির নির্যাতন, খেতে না দেওয়া, শাশুড়ির নির্যাতনে স্বামীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা।”
এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ১২ মার্চ বাবার বাড়ি ঢাকায় চলে যান বলে অভিযোগ পত্রে লেখেন নাজনিন।
আর ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেনের কাছে দাখিল করা অভিযোগ পত্রে নাজনিন স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া, চাকরি করতে না দেওয়া, সন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ আনেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আমি সব সময় আমর স্ত্রী-সন্তানকে আমার সাথে রাখতে চেয়েছি। আমার পরিবারের সাথে রাখতে চেয়েছি। বরং আমার স্ত্রী আমার পরিবারের সাথে থাকতে চান না বলে জোর করে চলে গেছেন। আমার স্ত্রী যখন অভিযোগ করলেন সন্তানের ভরণপোষণ দিই না, তারপর থেকে ভরণপোষণ পাঠানোর সবগুলো ডকুমেন্টস সংরক্ষণ করে রেখেছি।
মিজানুর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী বিভিন্নভাবে প্ররোচিত হয়ে ভুল পথে পা দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে আমাদের দুই পরিবারে মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক বসবে। সেখান থেকে একটি সমাধান আসতে পারে।
এ ব্যাপারে ঢাকায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতায় যুক্ত খন্দকার লিমানা নাজনিন বলেন, আমার একটি সন্তান রয়েছে। সন্তানের কথা ভেবে আমি মিজানের সংসারে ফিরে যেতে চাই। এ জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। তারা হয়তো কোন একটা সমাধান দেবেন।
