সাভার ট্যানারিতে ঢুকছে কাঁচা চামড়া, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৫৩ পিএম

ঈদের দিন বিকেল থেকেই সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে। তবে চামড়া নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।

সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও কোন নজরদারি না থাকায় মাঠ পর্যায়ে স্বল্পদামে চামড়া বিক্রীতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। ফলে সরকার নির্ধারিত দামতো দূরের এর অর্ধেক মূল্যেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা কম দামে চামড়া বিক্রির ঘটনায় ট্যানারি মালিকদের দায়ী করলেও তা মানতে নারাজ বাংলাদেশ ট্যানার্স এ্যাসেসিয়েশনের নেতারা।

কোরবানির ঈদ কেন্দ্র করে সারা দেশে কয়েক লাখ মৌসুমি ব্যবসায়ী, নিজের জমানো এবং ধার করা টাকা বিনিয়োগ করেন চামড়ার ব্যবসায়। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে পাইকার এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে তা বিক্রি করে কিছুটা লাভের জন্য। তবে চামড়ার দাম কমে যাওয়ার তাদের মাথায় বাড়ি পড়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করতে আসা হামিদুর রহমান বলেন, সাভারের কয়েকটি ট্যানারিতে ঘুরেছি চামড়া বিক্রির জন্য। কিন্তু ট্যানারির মালিক-কর্মচারীরা আমাদের চামড়াগুলো নানা অজুহাত দিয়ে প্রথমে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে চামড়ার সাইজ ছোট এবং নষ্ট হয়ে গেছে বলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চার ভাগের একভাগ নামমাত্র মূল্যে সেগুলো কেনার প্রস্তাব দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, মূলত ট্যানারি মালিকরা দাম কম দেয়ার জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করছেন।

এবার প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে গড়পড়তা ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। গড়ে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। চামড়া ক্রয়ে ট্যানারি মালিকদের অনীহার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

তবে চামড়া ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববাজারে চামড়ার ক্রেতা কম হওয়ায় এবার চামড়ার দাম কম। তবে কি কারণে বিদেশি ক্রেতা আগের চেয়ে কম সেটা সরকার ও ট্যানারি মালিকরাই বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

সাভারের ভুলুয়া ট্যানারি লিমিটেডের সুপারভাইজার শাহ আলম বলেন, বিগত বছরগুলোতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দর থাকলেও, ট্যানারি স্থানান্তরের পর এখন ৫ থেকে ৬ শ টাকায় চামড়া কিনতেও কষ্ট হচ্ছে ট্যানারি মালিকদের। এছাড়া বিশ্ব বাজারে বিশেষ করে চায়নাতে মালের চাহিদা কম থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, চামড়ার দাম কম হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোন হাত নেই। যারা আড়তদার রয়েছে তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা সরকারের বেঁধে দেয়া দাম দিয়েই আড়তদারদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকি।

তিনি আরও বলেন, গত কোরবানির ঈদে প্রায় ৮০ লাখ পশুর চামড়া কেনা হয়েছিল। এবারও সমপরিমাণ চামড়া কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে গত বছর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সময় মতো সঠিক পদ্ধতিতে লবণ না দিলে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত