অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ১০:০৯ পিএম

ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় সাথি আক্তার (২৪) নামের ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জহুরুল ইসলাম সরদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন জহুরুল ইসলাম।  

রবিবার বিকেলে  দাশুড়িয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর মাদ্রাসাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, প্রায় ১১ মাস পূর্বে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর মাদ্রাসাপাড়া গ্রামের মৃত দখিল সরদারের মাদকসেবী ছেলে জহুরুল ইসলাম সরদারের সাথে পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের মাজপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে সাথি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে গৃহবধূ সাথিকে চরমভাবে মারধর ও নির্যাতন করতো মাদকসেবী জহুরুল সরদার।

গত শনিবার গৃহবধূ সাথিকে জহুরুল তার মাকে সঙ্গে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে সাথি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রবিবার বিকেলে সাড়ে ৩টার সময় আবারও তাকে সামান্য বিষয় নিয়ে মারধরের এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সাথি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করে জহুরুল ও তার মা সাথির মরদের তার ঘরের ডাবের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

সন্ধ্যার দিকে এলাকার লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ঈশ্বরদী থানায় খবর দিলে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

এলাকাবাসী জানায়, মাদক সেবী জহুরুল ইসলাম সরদার এর আগেও একটি বিয়ে করেছিল। সেখানে তার ২ সন্তান রয়েছে। তার মাদক সেবন ও অত্যাচারের কারণে সেই স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। পরে সাথিকে আবার সে বিয়ে করে। সম্প্রতি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে ৩ মাস জেল খেটে বের হয়ে এসেছেন তিনি।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত