জোয়ারের পানি ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০২:১৬ পিএম

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপে বেড়িবাঁধের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আলী আকবর বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুরালিয়া ও আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কুমিরারচরা অংশ। এই দুই অংশ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি প্রবেশ করে লোকালয় প্লাবিত হয়। 

গেলবারের ঈদুল আজহার পর দিন থেকে জরুরি ভিত্তিতে জোয়ারের পানি ঠেকানোর জন্য বাঁশের খাঁচা তৈরি করে তার ওপর বালির বস্তা দিয়ে কুতুবদিয়া বেড়িবাঁধের বড়ঘোপ মুরালিয়া অংশে ৫০০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে। স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজ শুরু করেছে বড়ঘোপ ইউনিয়নের যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণ।

জানা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটিতে দ্বীপের বাইরে থাকা তরুণরা বাড়িতে আসলে তাদেরকে কুতুবদিয়া বেড়িবাঁধের বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুরালিয়া ভাঙা অংশে মাটি দে্ওয়ার কাজে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শহীদ উদ্দিন ছোটন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঈদের পর দিন থেকে এলাকার যুব সমাজ নেমে পড়ে কাজে।

image

স্থানীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের আর্থিক সহযোগিতায় ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশের খাঁচা তৈরি করে তার ওপর বালির বস্তা দিয়ে কুতুবদিয়া বেড়িবাঁধের বড়ঘোপ মুরালিয়া অংশে দীর্ঘ ৫০০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শহীদ উদ্দিন ছোটন।

কাজের উদ্বোধন করেন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা বলেন, ‘উদ্যোগ ও সৎ সাহস এবং মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেই যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।

image

এদিকে কোস্ট ট্রাস্টের মতো অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও বিত্তবানদের কুতুবদিয়া বেড়িবাঁধের গুরুত্বপূর্ণ ভাঙা অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী।

কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শহীদ উদ্দিন বলেন, তার ইউনিয়নের মুরালিয়া উপকূলে ১৭ চেইন বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ লোকালয় প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানি প্রবেশ ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি এলাকাবাসীদের সহায়তায় কাজ শুরু করেন। বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করতে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে তিনি জানান।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারে কক্সবাজার জেলার পাউবোর উপকূলের ৭১ পোল্ডারের কুতুবদিয়া দ্বীপের ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২০ কিলোমিটার বাঁধ ভাঙা থাকায় ওই সব এলাকায় প্রতিদিন জোয়ার-ভাটা চলছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত