ইমার্জিং দলের স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়দের নিয়ে বুধবার রাতে বাসটি সাভারের বিকেএসপি থেকে ফিরছিল ঢাকার মিরপুরের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। মাঝে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি আরেকটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে কমবেশি ব্যথা পেয়েছেন হাই পারফরম্যান্স দলের উইকেটরক্ষক জাকির হাসান, দুই পেসার মেহেদী হাসান রানা ও মানিক খান। বড় এক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে দল। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অজ্ঞাত কোনো কারণে এই খবরটিকে খুব হালকা করে দিতে চাইছে। কেন?
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড়রা আরেকটি বাসে করে ফিরছিল। মাঝে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। তেমন বড় কিছু নয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা নিরাপদে ফিরে এসেছে। কোনো সমস্যা?’ অন্য প্রান্ত থেকে জবাবÑ ‘না, সমস্যা কিসের!’ সুজন বলেন, ‘দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই।’
ওই বাসে ছিলেন সাত উঠতি ক্রিকেটার। আর ছিলেন কোচিং স্টাফদের একজন অভিজ্ঞ দীপু রায় চৌধুরী। ছিলেন সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বললেন, ‘আমরা অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।’ তার মানে দুর্ঘটনাটা এমন ছিল যে লাশ হয়ে ফেরার শঙ্কাও অমূলক নয়।
জাতীয় দলের হয়ে ২০১৮ সালে একটি টি-টোয়েন্টি খেলা জাকির একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ভয় পেয়েছিলাম, কিছুতেই সেটা কাটছে না। নাকে আর কপালে ব্যথা পেয়েছি। এই ব্যথা এখনো কিছুটা আছে। তবে বড় কোনো সমস্যা নয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে গেছি।’ কিন্তু সেই জাকির অ্যাকাডেমিতে দুপুরের দিকে এই প্রতিবেদককে বলছিলেন এর উল্টোটা। ‘না। তেমন কিছু হয়নি তো। ছোট্ট একটা দুর্ঘটনা।’ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার কাছ থেকে জানতে গিয়ে মনে হয় কোথাও বাধা আছে জাকিরের কথা বলায়, ‘তেমন ব্যথা পায়নি কেউ। দুর্ঘটনার পর বিসিবির সিকিউরিটি দল দ্রুত পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। ওখানে কিছুক্ষণ ছিলাম। তারপর চলে আসি অ্যাকাডেমিতে।’ প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়নি? জাকিরের জবাব, ‘না তো, কেউ তেমন ব্যথা পায়নি তো চিকিৎসা দেওয়ার মতো।’
অথচ সকালেই ইমার্জিং দলের ম্যানেজার সাবেক ফাস্ট বোলার হাসিবুল হোসেন শান্ত বলছিলেন, আগের দিন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর এদিন সকালে একবার বিসিবির চিকিৎসকরা খেলোয়াড়দের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন। কাউকে নিয়ে শঙ্কা নেই। জাকিরকে নিয়ে শুরুতে শঙ্কা থাকলেও তাকে শঙ্কামুক্ত পাওয়া গেছে সকালে।
বাঁহাতি পেসার রানারও ভয় কাটছিল না। কিন্তু ব্যাপার হলো, এই দুর্ঘটনা নিয়ে বিসিবির অবস্থান এবং দুর্ঘটনা নিয়ে আগে-পরে খেলোয়াড়দের কথার সুর পাল্টে যাওয়ার মধ্যে একটা কিছু বা প্রশ্ন থেকে যায়। হয়তো বিসিবি চাইছে এটা মিডিয়ায় কোনো ইস্যু না হোক। এর বাইরে আর কি থাকতে পারে?
বুধবার শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টি ছিল বিকেএসপিতে। এইচপি দলের যে খেলোয়াড়রা খেলার জন্য নির্বাচিত হননি তাদের খেলা দেখতে নিয়ে যাওয়া হয়। ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-১-এ সমতা আনার আনন্দে মেতেছিল স্বাগতিকরা। এরপর মূল দল টিমবাসে করে চলে আসে ঢাকা। আর বাকিদের নিয়ে বিসিবির একটি কোস্টারে জাকির-রানা-মানিকরা ফিরছিলেন। ওই বাসই দুর্ঘটনায় পড়ে। সিরিজের শেষ ম্যাচটি আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে খুলনায়।
