নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় আট ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় সোনালি পাট চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এসব এলাকায় এখনো সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া হয়। ফলে একদিকে যেমন কমছে পাটের গুণগত মান, অন্যদিকে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।
রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া হলো আধুনিক পদ্ধতি। প্রথমে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে নিতে হয়। তারপর পাটের আঁশে রিং আকারে আঁটি বেঁধে পানির একটি হাউজের মধ্যে জাগ দেওয়া হলে এবং পাটের গুণগত মান ভালো হলে কৃষকরা পাটের ন্যায্য মূল্য পান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পাট চাষের আধুনিক পদ্ধতি এবং কাটার পর পাট পচানোর জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলেও জটিলতার কারণে তা মানছেন না কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার আট ইউনিয়নে মেস্তা পাট, দেশি পাট এবং তোষা জাতের পাট প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। বিগত বছরে পাটের ভালো ফলন এবং দাম আশানুরূপ পাওয়ায় চাষিরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাট চাষের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে অনেক চাষি কৃষি অফিসের পরামর্শে পাট জাগ না দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে পাটের রং কালো এবং গুণগত মান কমে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, খোলা রাস্তায় ধুলা-বালুর ওপর পাট শুকানোর কারণে মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দিতে নারাজ। সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে গুণগত মান খারাপ হওয়ায় চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
