জাবিতে আন্দোলন ‘দমাতে’ ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:০১ পিএম

উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগকে দেওয়া ও গাছ কেটে ‘অপরিকল্পিত' আবাসিক হল নির্মাণের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ধারাবাহিক আন্দোলনে নেমেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। যোগ দিচ্ছেন শিক্ষকদের একটি অংশও। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন মোকাবিলায় ছাত্রলীগকে মাঠে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক অবস্থা তুলে ধরা হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ জানতে চাওয়া হয় এবং বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয় ছাত্রলীগ নেতাদের।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানালে নেতাদের তোপের মুখে পড়েন তারা। মিটিংয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলকে কেন্দ্র করে তিনটি হল নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ছাত্রলীগ নেতারা। এ ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৈরি বলে অভিযোগ তোলেন তারা।

বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করতে বললে এক নেতা বলেন, আমরা কী লিখব, আমরাই তো পরিকল্পনা সম্পর্কে ভালোভাবে জানি না।

এ সময় মান-অভিমান ভুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একসঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয় ছাত্রলীগকে।

মিটিংয়ে ৪৭ ও ৪৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের প্রশাসনের পক্ষে পাল্টা আন্দোলনে নামার কথা আলোচনা হয়।

আন্দোলনকারীদের মারধরের কথা উঠলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় শুরুতেই যেন এমনটা করা না হয়।

বৈঠকের অংশ নেয়া একাধিক ছাত্রলীগ নেতা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরে বৈঠক নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলকে কেন্দ্র করে তিনটি হল নির্মাণের ব্যাপারে আমরা আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। বিকল্প স্থানে করা যায় কি না সেই পরামর্শ দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে জুয়েল রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে হল নির্মাণ দরকার এ ব্যাপারে লেখালেখি করার কথা বলা হয়েছে’।

ছাত্রলীগের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ঠিকমতো করার লক্ষ্যে আমরা ছাত্রলীগের সঙ্গে মিটিং করেছি। বৈঠকে সব হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছিলেন। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া তারা আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা ক্ষোভের কথা জানিয়েছে আমরা সবকিছু শুনেছি’।

ফেসবুকে লেখালেখি ও নবীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামানোর নির্দেশনার ব্যাপারে বশির আহমেদ বলেন, এ ধরনের কোনো বিষয় নাই। শুধু যারা হলে সিটের ক্রাইসিস আছে তাদের উপলব্ধি করানো যে হলের কাজটা দ্রুত হওয়া দরকার। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার মধ্যে দু’কজন তো বলতেই পারে। আলোচনায় অনেকেই অনেক কথা বলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত