তদন্তের নির্দেশ সাংসদের

গাংনীতে স্কুলের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১২:০৯ এএম

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে ডিজিটাল উপস্থিতি মেশিন বা স্বয়ংক্রিয় হাজিরা যন্ত্র (ডিজিটাল অ্যাটেন্ডেন্সি মেশিন) ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ।

জানা গেছে, অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে কেনা হয়েছে এসব যন্ত্র। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ১৫২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪২টি বিদ্যালয়ে ঘটেছে এই দুর্নীতির ঘটনা। স্থানীয় সাংসদ এই দুর্নীতির জন্য প্রধান শিক্ষকদের পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষক নেতাদের দুষছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রতি বছর সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে সরকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এলজিইডির মাধ্যমে সরকারি আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। এবার অনুদানের টাকার একটি অংশ ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক ১৪২টি স্কুল ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনে স্কুলে স্থাপন করেছে।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিন শিক্ষক নেতার মাধ্যমে একটি নিম্নমানের কোম্পানির তৈরি এই ডিজিটাল অ্যাটেন্ডেন্সি মেশিন সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কিনে স্কুলগুলোর কাছে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করেছে। প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেই হাজিরা যন্ত্রের মূল্য ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা দেখিয়ে সরকারি তহবিল থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। একই কোম্পানির একই মানের মেশিন অথচ মূল্যে এমন গরমিল দেখে দুর্নীতির এই চিত্রটি প্রথম নজরে পড়ে। প্রতিটি বিল ভাউচারে রয়েছে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন স্বাক্ষর। অধিকাংশ স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা এখনো খাতায় হাজিরা দেয়। তারা ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র কেনার কথা জানেই না। অনেক স্কুলে এই যন্ত্র স্থাপনের আগেই তা নষ্ট হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠির শর্ত ধরে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চিঠিতে প্রতিটি মেশিনে চার ঘণ্টা ব্যাকআপ ক্ষমতা, ওয়াইফাই সাপোর্ট ও ওয়াইফাই সংযোগ, ন্যূনতম এক লাখ হাজিরা ধারণক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু ক্রয় করা মেশিনে এর কোনো কিছুই নেই।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, এই মেশিন কিনতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে। যন্ত্রটি স্থাপনে কিছু টাকা ব্যয় দেখিয়ে তাদের দিয়ে বিল ভাউচার করিয়ে নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। তারা এই দুর্নীতির পেছনের মূল হোতা হিসেবে গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমানসহ শিক্ষক নেতা মাজহারুল ইসলাম, মাসুদ আহমেদ, গোলাম হাসান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন প্রভাবশালী কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন।

গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাদ রাজা বলেন, সত্যি বললে চাকরির ক্ষতি হবে। তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা নিষেধ।

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে দুর্নীতি হয়েছে, এটা প্রমাণিত সত্য। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত