‘চিকিৎসা ব্যয়’ বহন করতে না পেরে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১০:০৩ পিএম

স্ত্রী সালমা খাতুনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাকে গলা টিপে হত্যা করে স্বামী ফারুক হোসেন। ঘটনার ১১ মাস পর আটক হয়ে সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য দেয়।

যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গৌতম মল্লিক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

ফারুক হোসেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোজাডাঙ্গা (দক্ষিণ শ্রীরপুর) গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিলে ইকরামুল ইসলাম ইকু চৌধুরীর পুকুরপাড়ে বাড়ি বানিয়ে থাকতেন। স্ত্রী সালমা খাতুনকে হত্যার সাড়ে ১১ মাস পর রবিবার ভোরে তাকে সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকা থেকে আটক করে যশোর কোতয়ালি থানার পুলিশ।       

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফারুক হোসেন জানান, তার প্রথম স্ত্রী একটি মেয়ে সন্তান ফেলে অন্যের হাত ধরে পালিয়ে চলে যান। এরপর ৪ বছর আগে তিনি সালমা খাতুনকে বিয়ে করেন। কিন্তু সালমার হৃদরোগ ছিল। এ ছাড়া আরো রোগ থাকায় তাকে প্রতি সপ্তাহে রক্ত দেওয়া লাগত। অপরদিকে তার শিশু সন্তানের জন্য সপ্তাহে দুটি করে দুধের কৌটা কিনতে হতো। স্বল্প আয়ের মানুষ হওয়ায় তার পক্ষে  সালমাকে রক্ত দেওয়া এবং সন্তানের দুধ কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে সে স্ত্রী সালমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

ফারুক হোসেন জবানবন্দিতে আরো জানায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর রাতে সালমার পাতলা পায়খানা ও বমি হয়। রাতে স্থানীয় একজন হাতুড়ে ডাক্তার দেখানো হয়। এতে তার স্ত্রী কিছুটা সুস্থ হয়। কিন্তু পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে আবারো বমি করে। এ সময় ছোট ভাইয়ের শ্যালক তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে সালমাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশে রিকশায় করে রওনা দেন। পথেই রিকশার মধ্যেই সালমাকে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তার স্ত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।  

২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সালমা খাতুনের পায়খানা ও বমি হলে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।। পরদিন সকালে  ফের তার বমির পাশাপাশি বুকে ব্যথা শুরু হলে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু সালমার রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ায় লাশের ময়নাতদন্ত করানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে নিহতের বড় ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে ফারুক হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করে গত ৩০ জুলাই কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত