শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭’এ রাশিয়াকে ফেরানোর প্রশ্নে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত বিরোধে’ জড়িয়ে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে সাত দেশের সম্মেলনে শনিবারের ডিনারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
এই সংগঠনটি আগে জি-৮ নামে পরিচিত ছিল। ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত করার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ২০১৪ সালে দেশটির সদস্য পদ স্থগিত করে বাকি সাত দেশ। সংগঠনটিতে রাশিয়া ছাড়া অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ইতালি ও জাপান।
দুজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ট্রাম্প ভ্লাদিমির পুতিনকে নিজেদের ক্লাবে ফিরিয়ে আনতে চাইলে কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতারা ‘তিক্ত দ্বিমত’ পোষণ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেতারা ইরান এবং আমাজনের আগুনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করলে ট্রাম্প মাঝখানে পুতিনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, এই আলোচনায় কেন রাশিয়াকে যুক্ত করা হবে না।
সিএনএন বলছে, ট্রাম্পের মুখে এমন কথা শুনে ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানান জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
তারা বলেন, ২০১৪ সালে বাদ দেওয়ার পর থেকে রাশিয়া আরও বেশি অগণতান্ত্রিক দেশ হয়ে উঠেছে।
নাছোড়বান্দা ট্রাম্প এরপরও নিজের প্রস্তাবে অটল থাকেন। ডিনারে বারবার একই বিষয়ে কথা বলেন। তখন বারাক ওবামার প্রসঙ্গে তুলে বলতে থাকেন, গ্রুপ থেকে রাশিয়ার বাদ পড়ার জন্য ওবামাই দায়ী।
রাশিয়াকে বাদ দিতে ওবামা তখন আসলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৪ সালের মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়ার পরবর্তী ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে আরও কঠোর অবরোধ আরোপ করা হতে পারে।’
রাশিয়া প্রশ্নে অন্য কয়েকটি দেশ কিছুটা নমনীয় থাকলেও ট্রাম্পের মতো কেউ বিবাদে জড়াননি। সম্মেলনের আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন পুতিনকে ফিরিয়ে আনা দরকার। ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রীও ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। জাপান থেকেও ‘হালকা সমর্থন’ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। মের্কেল এবং জনসনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, রাশিয়া যতদিন ক্রিমিয়াতে থাকবে, ততদিন তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না।
যুগ যুগ ধরে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীতল একটা যুদ্ধ চলে আসছে। ট্রাম্পের জামানায় সেই অবস্থা বজায় থাকলেও দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অনেকেই দাবি করেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে সাহায্য করেছেন পুতিন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হয়। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।
