গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় দুই যুবককে জুতা পেটা করে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার দায় থেকে মুক্ত করলেন স্থানীয় মাতব্বরেরা। আর এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোটালিপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে এ সালিশ বৈঠকের ঘটনা ঘটে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অভিযুক্ত দুই ছাত্র ধর্ষণ চেষ্টা করে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের জুতা পেটা করা হয়।
ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জুতা পেটার শিকার ওই দুই অভিযুক্তরা হলেন, কোটালিপাড়া উপজেলার মান্দ্রা গ্রামের হাবিব শেখের ছেলে হামিদ শেখ (১৯) ও একই গ্রামের আনিস শিকদারের ছেলে হালিম শিকদার (১৮)।
ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় তার মেয়ে মান্দ্রা ইউনাইটেড ইনস্টিটিউশনের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী বাড়ির পাশে এক বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাবার সময় অভিযুক্ত হামিদ শেখ ও হালিম শিকদার নামের দুই যুবক তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় মেয়ের চিৎকারে তিনি ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, এলাকার মুরব্বিদের অনুরোধে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। সালিশ বৈঠকে ওই দুই যুবককে জুতা পেটা করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদা কাগজে একটি মীমাংসাপত্র লেখা হয়েছে। যেহেতু মেয়ের ব্যাপার তাই তিনি আইন আদালত করতে যাননি বলেও জানান।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মঙ্গলবার মান্দ্রা গ্রামের জনৈক আজাহার শেখের বাড়িতে এক সালিশ বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠকে হাবিব ডাক্তার, ইলিয়াস শেখ, হামিম শেখ, সালাম দাড়িয়া, ইলিয়াছ শেখ, মামুন শেখ, হাসান মিয়া নামে এলাকার সালিশ বর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হাবিব ডাক্তারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এলাকার শান্তির জন্য হামিদ ও হালিমকে জুতা পেটা করা হয়েছে।
মেয়েটি তার নাতি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি আইন আদালতে গেলে মেয়েটির বিষয়ে আরো লোকজনের জানাজানি হতো। তাই যত কম লোক বিষটি জানে সেই ব্যবস্থা করেছে এলাকার মুরব্বিরা। তবে ওই দুই যুবকের অভিভাবকরাই তাদের জুতা পেটা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিযুক্ত হামিদ শেখের বাবা হাবিব শেখ জানান, তার ছেলে ওই মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টা করার মতো কোন ঘটনা ঘটায়নি। সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তারপরও এলাকার মুরব্বিদের রায়কে অসম্মান করেননি তিনি। তাদের দেওয়া রায় মেনে নিয়েছেন তিনি।
কোটালিপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া বলেন, এ ধরণের ঘটনায় সালিশ বৈঠকের মাধ্যেমে মীমাংসা করার আইনগত কোন বিধান নেই। ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত ও সালিশদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
