বেন স্টোকস তার পারফরম্যান্সের দ্যুতি ছড়িয়েই চলেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে অ্যাশেজ, তার মহিমায় উজ্জ্বল ইংল্যান্ড। কিন্তু ১৪ জুলাইয়ের ওই ফাইনালে সাফল্যের অপর প্রান্তে যে খেলোয়াড়টি ছিলেন তার কথা ভুলে গেছেন কি সবাই? বলা হচ্ছে মার্টিন গাপটিলের কথা। আগের বিশ্বকাপে যার নাম মুখে-মুখে ছিল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (২৩৭* বিপক্ষ উইন্ডিজ) খেলার কারণে। এক বিশ্বকাপ পর গাপটিলের চারপাশটা একদম বদলে গেল। এবারও তাকে নিয়ে কথা হলো কিন্তু তাতে শুধু আক্ষেপ। বিশ্বকাপের পর একদম চুপ মেরে যাওয়া গাপটিল অবশেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে এলেন। জানালেন অতীত ইতিমধ্যে ভুলে গেছেন, এবার তাকিয়ে আছেন ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে।
শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এখন দেশটিতে আছেন গাপটিল। সেখানেই জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের মুখোমুখি হন নিউজিল্যান্ড ওপেনার। কথায়-কথায় জানান ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো, একই সঙ্গে সবচেয়ে বাজে দিন ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ম্যাচে সবচেয়ে আলোচিত দুই ঘটনার দুটিতেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েছিলেন গাপটিল। মূল ম্যাচের শেষদিকে তার থ্রো থেকে আসা বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার হয়ে যায়। যা থেকে ইংল্যান্ড মহাগুরুত্বপূর্ণ ৬ রান পেয়ে যায় এবং ম্যাচটি টাই হয়। আর সুপার ওভারের শেষ বলে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হন গাপটিল। দ্বিতীয় রানটি পেয়ে গেলে নিউজিল্যান্ডই চ্যাম্পিয়ন হতো। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড তাদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ জিতে নেয়।
রবিবার পাল্লেকেলেতে শুরু হবে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দলে যোগ দেওয়া গাপটিল জানান, ‘আমার মনে হয় ক্রিকেটিং ক্যারিয়ারের সেরা এবং বাজে দিনটি পেয়েছি বিশ্বকাপ ফাইনাল দিয়ে। শুধু ক্যারিয়ার কেন জীবনেও এই ম্যাচের কথা ভুলব না। ওই খেলার বারবার দিক বদল সমর্থকদের জন্যও সেরা ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগের পথ তৈরি করে দিয়েছে। আমার বিশ্বাস সমর্থকরাও এমন ম্যাচ কখনো ভুলবে না। আমাদেরই দুর্ভাগ্য যে ফলাফলের বিপরীত দিকে আমরা পড়েছি।’
বিশ্বকাপ জয়ের পরপরই নিউজিল্যান্ডে ফিরতে পারেননি গাপটিল। ইংলিশ কাউন্টি দল উস্টারশায়ারের সঙ্গে চুক্তি থাকায় টুর্নামেন্ট শেষের পরও ইংল্যান্ডে থাকতে হয়েছে তাকে। খেলেছেন ইংলিশ টি-টোয়েন্টি লিগ টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের কিছু ম্যাচ। ওই সময় স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ দর্শকদের বিশ্বকাপ জয়ের মোহ কাটিয়ে ওঠা হয়নি। উস্টারশায়ারের ম্যাচগুলোয় খেলতে নেমে তাই বিরূপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল গাপটিলের। ইংল্যান্ডে ওই ম্যাচগুলো নিয়ে বলতে গিয়ে কিউই ওপেনার জানান, ‘অবশ্যই দর্শকরা ফাইনালে হারের খোঁচা দিচ্ছিল। এমনকি উস্টারের মাঠেও যখন খেলছিলাম তখনো কিছু কিছু ঘটনায় মনে হতো দর্শকরা আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে আমি ফাইনাল হেরেছি। সময়টা খুব বাজে ছিল। তখন আমার দ্রুত ঘটনাগুলো ভোলার প্রয়োজন ছিল আর ওই সময়ই কিনা এই অবস্থায় পড়তে হয়। এমনকি উস্টারের ড্রেসিংরুমও আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। মাঠে নামা, মাঠ থেকে আসা, অনুশীলনে যাওয়া, হোটেলে বা ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে থাকার সময়ও বারবার মনে হতো আমি ফাইনাল হেরেছি। বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করার সময় দর্শকদের কিছু কিছু আওয়াজ শুনেও এমন মনে হতো। সত্যিই, তখন ইংল্যান্ডে আমাকে খুবই বাজে সময় কাটাতে হয়েছে।’
লঙ্কানদের বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট অবিশ্বাস্যভাবে জিতে টেস্ট সিরিজ ড্র করা নিউজিল্যান্ড এবার টি-টোয়েন্টির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ছোট ফরম্যাটকে সামনে রেখে দল আমূল বদলে ফেলেছে কিউইরা। টেস্ট দলের মাত্র চারজনÑ রস টেইলর, মিচেল স্যান্টনার, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও নতুন নেতৃত্ব পাওয়া টিম সাউদি আছেন। বাকিরা সবাই নতুন করে সফরের দলে যোগ দিয়েছেন। সামনের বছর অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্ট সামনে রেখেই খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করছে কিউইরা। তাই টোয়েন্টি স্পেশালিস্টরাই আছেন দলে।
দলের মতো গাপটিলও এখন শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবছেন। স্বস্তি প্রকাশ করলেন দুর্বিষহ সময়টা কাটিয়ে উঠেছেন বলে, ‘ইংল্যান্ডের ওই সময়টা সত্যিই আমার জন্য কঠিন ছিল। তখন ঘটনাগুলো দ্রুত ভোলার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তখনই কাউন্টি দলের দায়িত্ব সামনে এসে যায়। তবে এখন সবকিছু কাটিয়ে উঠেছি। কিছুদিন বিশ্রামে ছিলাম, পরিবারকে সময় দিয়েছি, এখন আমার চেনা পরিবেশে আছিÑ এখন বেশ চাঙ্গা লাগছে। তাই আবার শুরুর জন্য আমি প্রস্তুত। এখন আমার সবটুকু মনোযোগ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এই ফরম্যাটটা সবসময়ই মজার। টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় হবে, তাই আমরা প্রায় নিজেদের কন্ডিশনই পাব। তার প্রস্তুতি শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে শুরু করাটা একটু অন্যরকম। তবে পরের সিরিজেই তো আমরা ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলব। সেটা বেশ মজার হবে।’
