ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় সোমবারও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমের জেরা অব্যাহত ছিল। এ নিয়ে তাকে গত ৫ কার্যদিবস ধরে জেরা করা হলো।
এদিকে পিবিআই প্রধান বনজ কুমারকে এ মামলায় সাক্ষী করতে আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জেলা ফেনীর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে গত ২৭ জুন থেকে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ পর্যন্ত সাতাশি জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। এখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলমকে জেরা করছেন আসামি পক্ষ। সোমবারসহ মোট ৫ কার্যদিবস তাকে জেরা করা হয়। মঙ্গলবারও তার জেরা চলবে বলে জানায় আদালত সূত্র।
এদিকে পিবিআই প্রধান, উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদারকে এ মামলায় সাক্ষী করতে আদালতে পিটিশন দিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। সোমবার বিকেলে বিচারক মামুনুর রশিদের কাছে পিটিশন জমা দেওয়া হয়।
আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল বলেন, গত রবিবার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীতে পিবিআই এর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার নুসরাত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিলেন। তাই তাকে এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সকল প্যানেল আইনজীবী এ পিটিশনে সাক্ষর দিয়েছি। আদালত মঙ্গলবার পিটিশন গ্রহণের উপর শুনানি করবেন বলে কথা রয়েছে।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
