বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অর্থ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক কৃষ্ণা রানী চৌধুরীর (৫২) পায়ে চাপা দেওয়া বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২৭ অগাস্ট অফিস শেষে বাংলামোটরের ফুটপাতে ট্রাস্ট বাসের চাপায় পা হারান কৃষ্ণা। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়।
মিডিয়াম ক্যাটাগরির যানবাহন চালানোর লাইসেন্স ছিল ট্রাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের বাসচালক মোরশেদের (৩৫)।
এই ক্যাটাগরির লাইসেন্সে সাত টনের নিচে যানবাহন চালাতে পারবেন তিনি। তবু দিব্যি হাতে তুলে নিয়েছিলেন ট্রাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের বাসের স্টিয়ারিং।
ট্রাস্টের বাস চালানোর প্রথম দিনেই মোরশেদ চাপা দেন কৃষ্ণা রায় চৌধুরীকে। বর্তমানে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করছেন রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে।
ট্রাস্টের বাসচালক মোরশেদকে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকার কাজীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তরের একটি দল। পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে দলটি বেশ কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পর মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানায়, মোরশেদ ওই দিনই প্রথমবারের মতো বাসের স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে রাজপথে নামেন। এর আগে তিনি প্রাইভেট কার চালাতেন। মিডিয়াম ক্যাটাগরির লাইসেন্সধারী মোরশেদ ট্রাস্ট পরিবহনের বাস নিয়ে বাংলামোটরে আসার পরপরই চাপা দেন কৃষ্ণাকে।
দুর্ঘটনার পর জটলার সৃষ্টি হলে মোরশেদ দ্রুত বাস থেকে নেমে যান। পালিয়ে প্রথমে যান রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকায়। সেখানেই তাঁর বাসা। তিন সন্তান ও স্ত্রী গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ থাকায় তিনি পাঁচ দিন ধরে একাই ছিলেন। বাসায় গিয়ে দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে নেন। মোবাইলের সিম পরিবর্তন করে চলে যান কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় টিয়াপাড়া গ্রামে। পরদিন বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারেন, বাসচাপা দেওয়ার ঘটনায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। এরপর কৌশল বদলে ফেলেন মোরশেদ। গ্রামের বাড়িতে থাকলেও রাতের বেলা প্রতিবেশী কিংবা অন্য কারও বাড়িতে ঘুমাতেন তিনি। দিনের বেলা আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকতেন।
মোরশেদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পরিদর্শক জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে পিবিআইয়ের দলটি রোববার ভোরবেলা বড় টিয়াপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। তবে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর মোরশেদ গা–ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বাড়ির ভেতরে শৌচাগারের পাশে একটি নারকেলগাছ ছিল। সেই নারকেলগাছ বেয়ে একেবারে মাথায় উঠে পড়েন তিনি। গাছের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেন। পিবিআইয়ের অভিযানকারীরা অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও মোরশেদের নাগাল পাননি। বাধ্য হয়ে তাঁরা বড় টিয়াপাড়া গ্রাম ছেড়ে চলে যান।
অভিযানকারীরা চলে যাওয়ার পর মোরশেদ নারকেলগাছ থেকে নেমে আসেন। গ্রামের বাড়িতে না থেকে সোজা চলে আসেন রাজধানীতে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির পর কাজীপাড়ায় আসেন রোববার রাতে। আর রাতেই মোরশেদের অবস্থান নিশ্চিত করে কাজীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক জুয়েল মিয়া বলেন, মোরশেদ মিডিয়াম ক্যাটাগরির লাইসেন্সধারী যানবাহনচালক। আগে তিনি বাসচালকের সহকারী ছিলেন। মিডিয়াম ক্যাটাগরির লাইসেন্স পেলেও বাস চালানোর অভিজ্ঞতা তার ছিল না। এমন তথ্য মোরশেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ পিবিআইকে বলে, সহকারীর কাজ ছেড়ে তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেট কার চালাতেন। এরপর গত ২৭ আগস্ট ট্রাস্ট পরিবহনের বাস চালানো শুরু করেন। প্রথম ট্রিপে ডিওএইচএস থেকে শাহবাগে বাস চালিয়ে আসছিলেন। এরপরই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা।
মোরশেদের দাবি, তিনি যে বাসটি চালাচ্ছিলেন, তাতেই সমস্যা ছিল। আর এ কারণেই দুর্ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যায়।
