ডায়রিয়ার পর চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে আড়াই শতাধিক শিশু। এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন কয়েক শ আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হঠাৎ করে রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে নাকাল হাসপাতালের দায়িত্বরতরা। চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে চুয়াডাঙ্গায় নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির জানান, গত ২৫ আগস্ট থেকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা ভর্তি হতে শুরু করে। এরপর থেকেই ক্রমাগত বাড়তে থাকে রোগীর চাপ। প্রতিদিনই শিশু ওয়ার্ডে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়তি চাপের কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ফ্লোরে ও মেঝেতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শিশুদের।
গতকাল সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, শয্যা (বেড) না পেয়ে রোগী ও স্বজনরা শিশুদের নিয়ে শিশু ওয়ার্ড ও পাশের গাইনি ওয়ার্ডের ফ্লোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালের বারান্দা ও সিঁড়িতেও আশ্রয় নিতে দেখা গেছে ভুক্তভোগীদের।
এ সময় কথা হয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের আবদুস সালামের সঙ্গে। তিনি জানান, তার শিশুকন্যা তিন দিন ধরে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বেড না পেয়ে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে চিকিৎসকদের পরামর্শে আরও কয়েক দিন হাসপাতালে অবস্থান করতে হবে তাদের।
গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে বেশ কয়েকজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নামেই ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল।’ হাসপাতালে সরকারিভাবে ওষুধপত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু সব ওষুধই তাদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। তাহলে সরকারি নাম দিয়ে কী লাভ?
বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার অবস্থা আরও করুণ। দুজন শিশু কনসালট্যান্টের রুমের সামনে কয়েক শ রোগীর স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। তীব্র গরমে আক্রান্ত বাচ্চাদের অবস্থা নাকাল। অভিভাবকরাও হিমশিম খাচ্ছেন সন্তানদের চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালী গ্রামের রেবেকা খাতুন বলেন, কয়েক দিন ধরে আমার এক বছরের মেয়ে ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত। সকাল ৯টায় টিকিট কেটে ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছি। এখন দুপুর ১টা। তারপরও ডাক্তার দেখাতে পারব কি না, সন্দেহ।
সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আসাদুর রহমান মালিক খোকন জানান, হঠাৎ করেই আবহাওয়ার তারতম্য হওয়ায় শিশুদের মাঝে নিউমোনিয়া রোগ ছড়িয়েছে। তার পরামর্শ, এ সময় আক্রান্ত শিশুকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। কোনো ক্রমেই মায়ের বুকের দুধ পান বন্ধ করা যাবে না। গরমের কারণে যাতে শিশুরা অতিরিক্ত না ঘামে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ১৩টি। অথচ রোগী ভর্তি থাকছে শতাধিক। এমনিতেই জনবলের অভাব রয়েছে। তার ওপর আবার বাড়তি রোগীর চাপে নাকাল চিকিৎসক-নার্সরা। তারপরও আমরা রোগীদের কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
