পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছে না ৫০ গ্রামের কৃষক

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:২৯ এএম

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তিন ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের কৃষক পাট জাগ দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্ষায় উপজেলার শীরগ্রামের সোনাপুর খাল এলাকায় মধুমতী নদী থেকে পানি আসে। সেই পানিতে খালপাড়ের কৃষকরা পাট পচিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার নদী থেকে খালের প্রবেশমুখ ভরাট থাকায় পানি ঢোকেনি খালে। ফলে পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের কৃষকরা।

মাগুরার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ মাসে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাহাতপুর এলাকা থেকে দীঘা ইউনিয়নের শীরগ্রাম মধুমতী নদী পর্যন্ত খাল খননের কাজ পায় ‘মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার নদী থেকে খালের প্রবেশমুখ খনন না করে খালের বিভিন্ন জায়গায় খনন শুরু করেন। এতে কাজে বাধা দেয় এলাকাবাসী। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালের প্রবেশমুখ খনন না করেই চলে যায়।

এদিকে, খালে পানির অভাবে পাট নিয়ে এখন বিপাকে উপজেলার রাজাপুর, দীঘা ও বালিদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামের কৃষক। তারা পানির অভাবে কাটা পাট জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে পাট কেটে হাঁটুপানিতে জাগ দিয়ে পচানোর চেষ্টা করছেন। এতে পাটের গুণগত মান নষ্টের পাশাপাশি দাম কম পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

শীরগ্রামের মিশুক খান জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মধুমতী নদীর সঙ্গে খালের প্রবেশমুখ ভরাট অংশ খনন না করায় খালে পানি আসছে না। এ কারণে কৃষকও পাট পচাতে পারছে না। উল্টো খননকাজে এলাকাবাসীর অনুরোধ সত্ত্বেও নদীর থেকে খালের প্রবেশমুখ খনন না করেই চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

দীঘা গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘খালের মুখ কেটে দিলে আমরা একটু পানি পেতাম। পাট জাগ দিতে পারতাম। এমনিতে পাট চাষ করে খরচের টাকা ওঠে না, তার ওপর পানি যদি না পাই তাহলে পুঁজি বলতে আর কিছু থাকবে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে।’

এ ব্যাপারে মাগুরা পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সফিউল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ রেখেছে। খালের বাকি ভরাট অংশ বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই খননকাজ শুরু করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত