বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের কক্ষ ভাঙচুর নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জন্য তিনি বিএনপি-জামায়াতকে অভিযুক্ত করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।
বুধবার একই বিভাগের সেকশন অফিসার আনোয়ার হোসেন মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দিন এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
আনোয়ার হোসেন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার লিখিত অভিযোগ জানান প্রশাসনের কাছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, নিজেই ভাঙচুর করে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন মশিউর রহমান।
ভাঙচুর হওয়ার পরও কোনো শিক্ষক এ বিষয়ে মুখ না খোলায় ক্যাম্পাসে এ সন্দেহ জোরদার হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রহরী শরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার আনুমানিক রাত ১০টায় মশিউর রহমানসহ আরো একজন একাডেমিক ভবন (২) এর দ্বিতীয় তলায় মশিউর রহমানের ব্যক্তিগত অফিসকক্ষে যান। তার কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে চলে যান। তারা চলে গেলে আমি প্রধান গেট তালা দিয়ে ঘুমাতে যাই। তারপর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত আর কেউ ভবনে আসেনি। সকাল ৮টায় আরেক নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আসলে আমি চলে যাই।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর জানান, সকাল ৮টার কিছু পর ভবনে আসেন গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর মশিউর রহমান নিচে আসেন এবং আমাকে ডেকে নিয়ে ওনার রুম ভাঙচুর অবস্থায় দেখান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে শিক্ষক মশিউর রহমান তার ফেইসবুক টাইমলাইনে নিজ কক্ষ ভাঙচুরের ছবি দিয়ে স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি, রাজাকার, আলবদরের বংশধর ও বিএনপি-জামাত-শিবিরের হামলা আমার রুমে’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ক্যাম্পাসে জামায়াত-শিবির বা ছাত্রদলের কোনো কার্যক্রম নেই। সিসি ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে বিষয়টি কারা ঘটিয়েছে।
রুম ভাংচরের বিষয়ে দুপুরের দিকে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগপত্রে শিক্ষক মশিউর রহমান উল্লেখ করেন, ৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর ১টায় ব্যক্তিগত অফিস ত্যাগ করেন এবং পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় অফিসে এসে নিজ কক্ষটি ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পান।
এ বিষয়ে প্রক্টর আতিউর রহমান (চলতি দায়িত্ব) জানান, বিষয়টি সন্দেহজনক। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রাত ১০টার দিকে মশিউর রহমানসহ আরেকজনকে প্রবেশ করতে দেখা যায় এবং পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তাপ্রহরীকে ফাঁকি দিয়ে ওই ভবনে প্রবেশ সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যেহেতু ওই ভবনে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র গেট রয়েছে এবং গেটকে কেন্দ্র করেই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে তাই এটা অনেকটাই অসম্ভব। বিষয়টি সেন্সেটিভ হওয়ায় উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ মহোদয়কে জানানো হয়েছে তার সঙ্গে আলোচনার পর তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে তাজহাট থানার ওসি রোকোনুজ্জামান রোকন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি সত্য না উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা সিসি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মশিউর রহমানকে ফোন করলে তিনি ধমকি দিয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
