বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন রিটা রহমানের স্বামী

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৮ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা হত্যার আসামি মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন পাওয়া রিটা রহমানের স্বামী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিএনপির অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

রবিবার দেশ রূপান্তরের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটা রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা থেকে খালাস পেয়েছিলেন মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান। তার সঙ্গে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আরো কয়েকজন খালাস পান’।

রিটা রহমান বলেন, ‘কারণ খায়রুজ্জামান ওই সময় দেশে ছিলেন না। আওয়ামী লীগের এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। শুধু শুধু বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ এ নিয়ে সমালোচনা করছে’।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তার নির্দেশেই রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে’। 

ক্ষুব্ধ শহিদুল ইসলাম মিজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিটা রহমানের স্বামী বঙ্গবন্ধু হত্যার পলাতক আসামি। তা ছাড়া রিটা রহমান কখনো বিএনপি করেননি। এমন বদনাম যার নামে আছে তাকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো। অথচ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মোজাফফর হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া হোসেনকে মনোনয়ন দিলেও ভালো হতো। তা ছাড়া আমরা এত দিন বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। সরকারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছি। আমাদের মূল্যায়ন না করে দল রিটা রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে এটা খুবই দুঃখজনক’।

তিনি বলেন, ‘এর আগে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রথমে দলের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেননি। পরে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে নেতাকর্মীরা মাঠে নামলেও মনেপ্রাণে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি’।

রোববার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় রিটা রহমানকে প্রার্থী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়।

জেল হত্যাকাণ্ডের পর ওই সময়ই লালবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর বন্ধ রাখা হয় ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ সরকার জেলহত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এরপর দীর্ঘ ৮ বছরের বেশি সময় বিচারকাজ চলার পর ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক ৩ আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ এবং এলডি দফাদার মো. আবুল হাসেম মৃধার মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন কর্নেল (অব). সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সৈয়দ শাহরিয়ার রশীদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ (বরখাস্ত), লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আহাম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) মো. কিসমত হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) নাজমুল হোসেন আনসার। অন্যদিকে খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন বিএনপি নেতা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান, জাতীয় পার্টির নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী মরহুম তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নূরুল ইসলাম মঞ্জুর ও মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান।

বর্তমানে খায়রুজ্জামান কানাডায় অবস্থান করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত