বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী বুধবার রাজধানী ঢাকায় ও পরদিন সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে, ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে, ২১ সেপ্টেম্বর সিলেটে এবং পরবর্তী সময়ে রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ করবে দলটি।
রবিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেগম জিয়া অসুস্থ হলেও তাকে সুস্থ দেখিয়ে কারাগারে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে সরকার।
খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি একান্ত চেয়ারপারসনের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আবেদন করা হয়নি।
গত শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা হয়। সভায় স্কাইপের মাধ্যমে লন্ডন থেকে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে তাকে তার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ও সহকারী পরিচালক বলছেন, খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ সুস্থ। এ কথায় পরিষ্কার বোঝা যায় তাকে চিকিৎসা না দিয়ে আবার কারাগারে পাঠানোর চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শরীর এমনিতেই নুয়ে গেছে। আর সঠিক চিকিৎসা যদি না হয় তাহলে তো শরীরের অবস্থা আরও বিপজ্জনক অবস্থায় গিয়ে দাঁড়াবে। ওনাকে জেলে রাখা হয়েছে একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য। তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, তার জামিনে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে সরকার। স্বাস্থ্যগত কারণে আবার তারা জামিনের চেষ্টা করবেন। কিন্তু মূল বিষয় রাজনীতি। পৃথিবীর সব সরকারের একটা মানবিক দিক থাকে। এই সরকারের কোনো মানবিক দিক নেই। যার কারণে খালেদার স্বাস্থ্যের এ অবস্থা।
খালি পেটে ব্লাড সুগার ১৪ কি নরমাল : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদার ব্লাড সুগার ১৪তে উঠে গেছে। এটাকে বিএসএমএমইউর চিকিৎসকেরা বলছেন স্বাভাবিক। তিনি হাঁটতে পারেন না। বাঁ হাতে কিছু ধরতে পারেন না। কিন্তু তারা বলছেন সুস্থ আছেন। চিকিৎসকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক এই মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
